মেয়েদের ঈদ পোশাক
ঈদ সামনে রেখে মেয়েদের পোশাকে বৈচিত্র্যের শেষ নেই। চিরায়ত সালোয়ার-কামিজ থেকে শুরু করে হালের কুর্তি, টিউনিক, টপস, ফতুয়া কিংবা লেহেঙ্গা সবগুলোরই চাহিদা রয়েছে।
আবার ঈদ এলেই বিপণি বিতানগুলোতে দাপট বাড়ে বাহারি নামের ভারতীয় পোশাকগুলোর। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গত ঈদে বাজারে ছিল ‘সারারা’ জামার রাজত্ব। এবারের ঈদ বাজারে এসেছে ‘গারারা’। এটি মূলত থ্রি-পিস প্যাটার্নের ড্রেস। গারারা’র কামিজগুলো সাধারণত খাটো ঝুলের হয়ে থাকে। অন্যদিকে সালোয়ার বা পায়জামা থাকে পালাজ্জো ধরনের। মূলত সালোয়ারেই থাকে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন। সালোয়ারের কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত সাধারণ পায়জামার চেয়ে খানিকটা ঢোলা থাকে। আর হাঁটুর অংশ থেকে শেষ পর্যন্ত ঘের ক্রমেই বাড়তে থাকে। বড় ঘেরের পাশাপাশি কোনো কোনো সালোয়ারে রয়েছে কুঁচি।
রাজধানীর বিপণি বিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, কিশোরী থেকে শুরু করে অল্প বয়সী তরুণীদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে গারারা।
বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বোম্বে কালেকশনের স্বত্বাধিকারী মো. শাহিন জানান, বিভিন্ন ফেব্রিকস ও কাজের মধ্যে
পাওয়া যাচ্ছে গারারা। সিল্ক, র-সিল্ক, টিস্যু, জর্জেট কাপড়ের ওপর চুমকি-পুঁতি ও এমব্রয়ডারির ভারী কাজ থাকছে এই ধরনের ড্রেসগুলোতে।
বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের দোকানগুলোতে গারারা বিক্রি হচ্ছে চার হাজার টাকা থেকে বিশ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে নিউ মার্কেট, গাউছিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেটে পনেরশ টাকা থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে মিলবে ঈদের নতুন এই ড্রেস।
এদিকে গারারা ছাড়াও মেয়েরা বেছে নিচ্ছে সিঙ্গেল কামিজ, কুর্তি ও টিউনিক। সিঙ্গেল কামিজগুলোর ঝুলের ক্ষেত্রে শর্ট ও লং দুই প্যাটার্নেরই চাহিদা রয়েছে। ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন সিঙ্গেল কামিজগুলো। কটন, জর্জেট কাপড়ে এমব্রয়ডারি কাজের কামিজের আধিক্য বাজারজুড়ে।
লম্বা ঝুলের কুর্তিগুলোর কাটতি বেশ। সিঙ্গেল ও ডাবল পার্টের কুর্তিও রয়েছে বাজারে। ডাবল পার্টের কুর্তিগুলোর কোমরে থাকছে চিকন বেল্ট। ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের কুর্তি।
এই গরমে ট্রেন্ডি লুক আনতে চাইলে বেছে নিতে পারেন টিউনিক অথবা টপস। হাফ হাতা ও থ্রি-কোয়ার্টার হাতার টিউনিক ও টপসগুলো বেশ স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। এছাড়া আছে মাইক হাতারও টপস। কটন, অথবা সফট লিলেন কাপড়ের টপসগুলো গরমে দেবে প্রশান্তি। গরমের পরার উপযোগী এ রকম সহনশীল রংগুলোরই চাহিদা বেশি।
ঈদের দিনের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন হাউসগুলোও তাদের পোশাকে ব্যবহার করছে আরামদায়ক ফেব্রিকস।
ফ্যাশন হাউস বিবিয়ানার স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, “ঈদের জামাটি পরে যেন সবাই আরাম ও স্বাছন্দ্যবোধ করে তাই আমরা কটন, সফট লিলেন ও ভয়েল কাপড় ব্যবহার করেছি। আবার ঈদের মতো উৎসবে সবাই একটু উজ্জ্বল
রঙের পোশাক পরতেই পছন্দ করে। তাই আমরা পোশাকে হলুদ, আসমানি, লেমনের মতো রং ব্যবহার করেছি যেন ক্রেতারা পোশাকের মধ্যে উজ্জ্বল রং ও স্বাছন্দ্য দুটোই খুঁজে পান।
এছাড়াও মেয়েদের ফ্যাশনে যুক্ত হয়েছে সিগারেট প্যান্ট। নরমাল প্যান্ট কাটে জর্জেট, সিল্ক কিংবা লিলেন কাপড় দিয়ে বানানো হচ্ছে সিগারেট প্যান্ট। এ ধরনের প্যান্টগুলো গোড়ালির ওপর লম্বা এবং ন্যারো শেইপের হয়ে থাকে। প্যান্টের একদম নিচের অংশে লেইস, এমব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ। রেডিমেড কিংবা নিজের পছন্দ মতো বানিয়ে নিতে পারেন এ ধরনের প্যান্টগুলো। ৬০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ড কিংবা নন ব্র্যান্ডের সিগারেট প্যান্ট পেয়ে যাবেন বাজারে।
সিগারেট প্যান্ট ছাড়াও জিনস, লেগিংস ও বিশেষ করে পালাজ্জোর চাহিদা ব্যাপক। ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক হওয়ায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে অনেকেরই পছন্দ পালাজ্জো। ক্রেতাদের এই চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে এসেছে বাহারি রং ও ডিজাইনের পালাজ্জো।
ফ্যাশন হাউস লা রিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্নুজান নার্গিস জানান, তাদের ঈদ কালেকশনে পালাজ্জোসমূহ এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যেন যেকোনো কামিজ, টিউনিক বা সিঙ্গেল পিসের সঙ্গে এগুলো দারুণভাবে মানিয়ে যায়।
মেয়েদের জিনস প্যান্টের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো চল রয়েছে স্কিন টাইট প্যান্টগুলোর। এদিকে মেয়েদের কাছেও রিপড অর্থাৎ ছেঁড়া জিনসগুলো বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া ছেলেদের মতো মেয়েদের প্যান্টেও এসেছে সাইড স্ট্রাইপ ডিজাইন।
২০০ থেকে শুরু করে ১৮০০ টাকার মধ্যে পাবেন একরঙা ও প্রিন্টের বাহারি সব পালাজ্জো। অন্যদিকে ২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে লেগিংস। আর জিনস প্যান্ট মিলবে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোর আউটলেট ছাড়াও পালাজ্জো, লেগিংস কিংবা জিনস প্যান্টের খোঁজে ঢুঁ মারতে পারেন নিউ মার্কেট, গ্লোব শপিং সেন্টার ও নুরজাহান মার্কেটে, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট এবং উত্তরা বঙ্গবাজারে।
ছেলেদের ঈদ পোশাক
মেয়েদের পাশাপাশি ঈদ ফ্যাশনে পিছিয়ে নেই ছেলেরাও। পাঞ্জাবি ছাড়াও এবারের ঈদে ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট ও পোলো টি-শার্ট। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর ছোট-বড় দোকান থেকে শুরু করে নামিদামি ফ্যাশন হাউসগুলোর আউটলেটগুলোতে বসেছে নতুন নতুন পণ্যের মেলা। আসন্ন ঈদে আবহাওয়া গরম থাকলেও তরুণদের বরাবরই পছন্দ ফুলহাতা শার্ট। তবে শার্টের ফেব্রিকসের ক্ষেত্রে কটনের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। আর ডিজাইনের ক্ষেত্রে স্ট্রাইপ, চেক, একরঙা কিংবা ফ্লোরাল প্রিন্ট, সমান চাহিদা রয়েছে সবগুলোরই।
ফ্যাশন হাউস প্লাস পয়েন্টের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়াকে মাথায় রেখে আমরা শার্টের কালেকশনে শুধু সুতি কাপড়ের শার্টগুলো এনেছি।’
তিনি আরও জানান, তাদের কালেকশনের বুক পকেটবিহীন ফ্লোরাল প্রিন্টের অথবা স্ট্রাইপ ও চেকের সঙ্গে লেখা ওয়ালা শার্টগুলো বেশ জনপ্রিয়।
প্রচলিত কটনের বাইরে গিয়ে এবারের ঈদে লিলেন কাপড়ের প্রিন্টের শার্ট এনেছে ফ্যাশন হাউস এক্সট্যাসি। কাপড় বেশ নরম ও ফ্যাশনেবল হওয়ায় শার্টগুলো একই সঙ্গে আরামদায়ক ও স্টাইলিশ। এছাড়াও কটনের মধ্যে একরঙা ও প্রিন্টের শার্টও মিলবে এখানে। ১৪০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন এক্সট্যাসির শার্টগুলো।
প্যান্টের বাজারে চাহিদা রয়েছে জিনস ও গ্যাবার্ডিন উভয়েরই। প্যান্টগুলোর ডিজাইনে এবার যুক্ত সাইড স্ট্রাইপ অথবা পাইপিন। কোমর থেকে শুরু করে বটম পর্যন্ত দু’পায়ের দুপাশে থাকছে সিঙ্গেল স্ট্রাইপ অথবা পাইপিন। ফ্যাশন হাউস ইয়েলো’তে পাবেন এ ধরনের গ্যাবার্ডিন প্যান্টগুলো। অন্যদিকে জিনস প্যান্টের মধ্যে এ ধরনের ডিজাইন নিয়ে এসেছে এক্সট্যাসি।
এছাড়াও রিপড জিনস অর্থাৎ ছেঁড়া জিনসগুলোর চাহিদাও বেশ এবারের ঈদ বাজারে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, মূলত হাঁটু বরাবর একটানে ছেঁড়া প্যান্টগুলোই তরুণদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।
জিনস কিংবা গ্যাবার্ডিন, ন্যারো ও সেমি ন্যারো শেইপের কদর রয়েছে উভয় ক্ষেত্রেই। আর এবারের প্যান্টগুলো কিছুটা খাটো ঝুলের। অর্থাৎ প্যান্টগুলোর ঝুল থাকছে গোড়ালির কিছুটা ওপরে অথবা গোড়ালি পর্যন্ত।
ব্র্যান্ড আউটলেট থেকে জিনস প্যান্ট কিনতে চাইলে দাম পড়বে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে নিউ মার্কেট, নূরজাহান মার্কেটে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন জিনস প্যান্ট। গ্যাবার্ডিন প্যান্টগুলোও একই দামে কিনতে পারবেন এসব মার্কেট থেকে। তবে ব্র্যান্ডের আউটলেটগুলোতে জিনস প্যান্টের দাম পড়বে ১৩০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে। শার্ট-প্যান্টের তুলনায় টি-শার্টের বেচাকেনা কিছুটা কম থাকলেও চাহিদা নেহাত কম নয়। রাউন্ড নেক টি-শার্টের ক্ষেত্রে কটন কাপড়ের টি-শার্টগুলোর চাহিদা বেশ। সাদা, ধূসর, আসমানি এই ধরনের হালকা রংগুলো বেছে নেওয়াই আরামদায়ক হবে। অন্যদিকে পোলো টি-শার্টের মধ্যে একরঙা পোলো টি-শার্টগুলোর কদর বেশি তরুণদের কাছে। চিকন ও মোটা স্ট্রাইপ ডিজাইনগুলোও চলছে বেশ। সাধারণত পোলো টি-শার্টের কাপড় কিছুটা মোটা ধরনের হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে দেখেশুনে কটন কাপড়গুলো বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ৩০০ থেকে শুরু ১০০০ টাকার মধ্যে নিউমার্কেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে মিলবে রাউন্ড নেক ও পোলো টি-শার্টগুলো।