রাজধানীর উত্তরখানের একটি বাসা থেকে মা, মেয়ে ও ছেলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে হত্যার পর অন্যজন আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলের গলার কাটা চিহ্নটা আত্মহত্যার সামঞ্জস্য নয়। তবে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং একটি বিষের বোতল
পাওয়া সব মিলিয়ে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে রিপোর্টে যদি মায়ের শরীরে বিষের আলামত পাওয়া যায় তাহলে বলা যাবে মা নিজে মেয়ে ও ছেলেকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেছেন। আর যদি তা না পাওয়া যায় তাহলে ছেলেই মা ও বোনকে মেরে হত্যা করেছেন এমনটাই মনে হচ্ছে।’
গত রবিবার রাতে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকার ওই বাসার দরজা ভেঙে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত করার পর যে আলামত পেয়েছি সেগুলো কনফার্ম করার জন্য ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক বোর্ড ক্রাইম সিন ভিজিট করেছি। সেখানে অনেক ইনফরমেশন পাওয়া গেছে। বাড়ির দরজা যে ভেতর থেকে আটকানো ছিল এবং পুলিশ তা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছিল সেটা কনফার্ম হয়েছে। এরপর (বাসার) ভেতরে ডাইনিং রুমে ফ্লোরে রক্ত পাওয়া গেছে, যার ওপরে কিছু মাছি মরে পড়ে ছিল। ডাইনিং টেবিলে একটি কীটনাশকের খালি বোতল পাওয়া গেছে এবং এক পাতা ঘুমের ওষুধ পাওয়া গেছে। যাতে দুটি ট্যাবলেট অবশিষ্ট ছিল, বাকি আটটি ট্যাবলেট ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাশের আরেকটি রুমে যেখানে মা ও মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে সেই বিছানায় রক্ত পাওয়া গেছে এবং ফ্লোরে কিছু বমি পাওয়া গেছে। এরপর তার পাশের আরেকটি রুমে বিছানায় রক্ত ও বমি আছে। এরপর থানায় গিয়ে জব্দ করা রক্তমাখা বঁটি ও দুটি ছুরি থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। আর তাতে কারও আঙুলের চিহ্ন আছে কি না এবং রক্ত, বমিসহ সব আলামত সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।’
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে সাধারণত এক মাসের মতো সময় লাগে জানিয়ে ডা. সোহেল বলেন, ‘তবে এ ঘটনাটি সেনসেটিভ হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’