অস্ত্রের ভুয়া লাইসেন্স

৩৯১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

রংপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, গ্রহণ এবং ব্যবহারের অভিযোগে ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শিগগিরই আদালতে এই

চার্জশিট দাখিল করা হবে। তিনি আরও জানান, মামলার এজাহারে ডিসি অফিসের জুডিশিয়াল মুনশিখানার অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শামসুল ইসলাম একমাত্র আসামি হলেও চার্জশিটে আরও ৩৯০ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে; যাদের অধিকাংশই লাইসেন্স-গ্রহীতা। দুদক মামলার তদন্তকালে ৩৫৭টি লাইসেন্স, ৩৫৪টি অস্ত্র এবং ৪ হাজার ৩৮টি কার্তুজ জব্দ করে।

উপপরিচালক প্রণব জানান, জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৮ মে রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। ওই মামলার বাদী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমূল্য চন্দ্র রায়। মামলাটির তদন্ত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, তদন্তকালে দেখা যায়, মো. শামসুল ইসলাম ডিসি কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে ২০১১ সালের ১৭ মে থেকে ২০১৭ সালের ১৬ মে পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তিনি আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ২১টি ভলিউমের ৩৯০টি লাইসেন্সের পুরনো পাতা ছিঁড়ে সেখানে নতুন পাতা সংযোজন করেন। প্রতারণা ও জালিয়াতিমূলকভাবে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অপর অফিস সহকারী অনুকূল চন্দ্রের স্বাক্ষর জাল করেন। এর মাধ্যমে ৩৯০ জন ব্যক্তির নামে ভুয়া-জাল লাইসেন্স ইস্যু করেন। অবৈধ কাজের মাধ্যমে ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করা ২০ লাখ টাকা অর্জন করেন। ওই টাকা নিজের আলমিরাতে নগদ, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক এফডিআরের মাধ্যমে দখলে রেখে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় অপরাধ করেছেন।