শিক্ষককে লাথি: ছাত্রলীগ সভাপতিকে বাদ দিয়েই অধ্যক্ষের মামলা

পাবনায় শিক্ষককে লাথি ও মারধরের ঘটনার মূল হোতাকে বাদ দিয়ে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা। 
শিক্ষকরা এই ঘটনার মূল হোতাসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের মানববন্ধন করেন। 

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি পাবনা জেলা শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে জেলার সব সরকারি কলেজের কয়েক শ শিক্ষক অংশ নেন। 

এদিকে ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

মানববন্ধনে শিক্ষকরা জানান, পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এবং জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শিবলী সাদিক প্রভাব খাটিয়ে ঘটনার মূল হোতা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুনের নাম বাদ দিয়ে মামলা করতে চাপ দিয়েছেন। 

তারা বলেন, যারা এ মামলায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন, তাদের অনুরোধ করছি সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান না নেয়ার জন্য।

তারা বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় ছাত্র ও বহিরাগতদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। গত কয়েক বছরে অন্তত ১৫ শিক্ষক তাদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। কেউ কলেজ থেকে নীরবে বদলি নিয়ে চলে গেছেন। 

মানববন্ধন চলাকালে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি পাবনা জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রব, রাজু আহমেদ, নুরে আলম, কামরুজ্জামান, আতিকুল ইসলাম প্রমুখ শিক্ষক নেতারা বক্তব্য দেন। 
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, বুধবার রাতে পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখসহ আরো তিন-চারজনকে অজ্ঞাত রেখে মামলা করেন। 

‘মামলা দায়েরের পর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাবনা সদরের মালঞ্চি এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামি সজল ইসলাম ও শাফিন শেখকে গ্রেপ্তার করে’। 

তিনি বলেন, তবে মামলায় সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। শিক্ষকরা যাদের নামে মামলা দিয়েছেন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

জেলা ছাত্রলীগের নিজস্ব প্যাডে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, অনিবার্য কারণে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। 

মারধরের শিকার বুলবুল কলেজের বাংলার শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, গত চার দিন পর বাসা থেকে বের হলে দেখি আমাকে অপরিচতরা অনুসরণ করছেন। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। 

‘এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য’র চাপে শুনেছি অধ্যক্ষ স্যার ঘটনার মূল হোতাকে বাদ দিয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসলে আমি বুঝতে পারছি না আমার কী হয়। পুনরায় যদি আমার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে তাহলে আমি নিশ্চিত আমাকে তারা শেষ করে ফেলবে’। 

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স মামলায় জুন্নুনের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি জেলা ছাত্রলীগকে ডেকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। 

‘অধ্যক্ষর দায়েরকৃত মামলার কারা আসামি হবে-না হবে সেটি বাদীর নিজস্ব ব্যাপার, এখানে আমার কিছু বলার নেই। তবে কলেজ শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিল, তারা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন’।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেওয়ায় পাবনায় কলেজ শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেন ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। ১২ মে তারিখের এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে।