খালেদার মুক্তি নিয়ে বিএনপিতে হতাশা

৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির চার সংসদ সদস্য যখন শপথ নেন তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে যাচ্ছেন শিগগিরই। এমন ভাবনা ও গুঞ্জনের পেছনে ছিল সরকারের প্রভাবশালী একটি অংশের সঙ্গে বিএনপির একটি অংশের বৈঠকের খবর। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি কথিত ফোনালাপ অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই বৈঠকের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। তারা বলেন, মুক্তির একটা সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তবে তা হয়নি। যে মামলায় জামিন হলে তিনি মুক্তি পেতেন সে মামলার শুনানি আরও দুই মাস পিছিয়ে গেছে। তাই আপাতত বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। এই ঈদও তাকে কারাগারে করতে হবে। কবে নাগাদ বিএনপি চেয়ারপারসন মুক্তি পেতে পারেনÑ জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তার আইনজীবীরা বলতে পারবেন।’ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারপারসনের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, ‘ঈদের আগে চেয়ারপারসনের মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। তার মুক্তি পেতে আরও দুই মাস সময় লাগতে পারে।’ তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঈদের আগে মুক্তি হলেও হতে পারে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে জানান, দলের সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণকে সামনে রেখে সরকারের প্রভাবশালী একটি অংশের সঙ্গে তাদের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে দলের সংসদ সদস্যদের শপথের বিনিময়ে চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়টির একটি ফয়সালাও হয়েছিল। কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরোধিতায় তা ব্যর্থ হয়। কবে নাগাদ চেয়ারপারসন মুক্ত হবেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে গুঞ্জন ছিল ওই বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ওই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বৈঠকে মহাসচিব অংশ নেননি। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারের এক সদস্য অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু দলের এক স্থায়ী কমিটির সদস্য ‘বাম হাত দেওয়ায় সে ফয়সালা’ আলোর মুখ দেখেনি। ‘ফয়সালায়’ খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্যারোলে, না স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হোক আমরা চেয়েছিলাম চেয়ারপারসনের মুক্তি হোক।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তি। প্যারোলে মুক্তি আমিসহ দলের কেউই চাইনি। যারা ফয়সালা করতে গিয়েছিল তারা রাজনৈতিকভাবে সরকারকে মোকাবিলা করতে পারেননি বলেও আমার মনে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ জামিন প্রক্রিয়ায় সরকার বাধা দিচ্ছে। বাকি ছিল প্যারোল। প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তো চেয়ারপারসনকে স্বাক্ষর করতে হবে। এটি তো আমি আটকে রাখতে পারব না। সে হিসেবে আমাকে দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই। সরকার যেভাবে বাধা দিচ্ছে তাতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারেই মরতে হবে। সরকারও মনে হয় তাই চায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফরকালে তার একটি ফোনালাপ অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ফোনালাপের একটি অংশে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ওরা এসেছিল আলোচনা করতে। আমি যা বলার বলে দিয়েছি। এখন তারেক বেশি বাড়াবাড়ি করলে তার মা মুক্তি পাবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাদের বৈঠকের বিষয়টি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতারা প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে যে হোটেলে ওঠেন তার সামনে বিক্ষোভ করেন; তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী। এখন খালেদা জিয়ার মামলা কেরানীগঞ্জ কারাগারের অভ্যন্তরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে নিষ্পত্তির জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে ছাড়পত্র দিলেই কারা কর্তৃপক্ষ তাকে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যাবে।’