ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কবি হেনরী স্বপন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারিক হাকিম শামীম আহম্মেদ তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে থাকবেন তিনি। গতকাল হেনরী স্বপনের পক্ষে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার বাদী ক্যাথলিক চার্চের ফাদার লরেন্স ল্যাকা ডালিয়ে গোমেজ জামিন আবেদনের পক্ষে লিখিত অনাপত্তিপত্র জমা দেন।
আইনজীবী সুভাশীষ ঘোষ বাপ্পি ও সুভাস চন্দ্র দাস জানান, বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এ জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। মামলার আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত হেনরী স্বপনকে জামিন দিয়েছেন বিচারক।
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা, লেখক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামস জগলুল হোসেন ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ইমতিয়াজ মাহমুদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান রচি ও সাখাওয়াত হোসেন তাসলিম। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম শামীম জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন।
গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর চৌমাথা এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে কবি হেনরী স্বপনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ফাদার লরেন্স ল্যাকা ডালিয়ে গোমেজ। মামলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ করা হয়।
হেনরী স্বপনকে গ্রেপ্তারের পরপরই সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এর তীব্র নিন্দা জানান।
জামিনে মুক্তির পর হেনরী স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার ঘটনার পর গোটা দেশ যখন শোকে বিহ্বল তখন বরিশাল চার্চের এক ফাদার আনন্দ অনুষ্ঠান করছিলেন। এ বিষয় নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেই। একই সঙ্গে পত্রিকায় মন্তব্য প্রতিবেদন লেখি। এতে ক্ষিপ্ত হন চার্চের ফাদারসহ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একাংশ। নানাভাবে তারা আমাকে হুমকি-ধমকি দিতে থকেন।’
জামিন পেলেন ইমতিয়াজ মাহমুদ : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে ফেইসবুকে উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ২০১৭ সালে খাগড়াছড়ি সদর থানায় ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাইকোর্টের আদেশে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত জামিন পান ইমতিয়াজ। এই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত বুধবার সকালে ইমতিয়াজকে বনানীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন তাকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।