ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ

অস্থির হতে পারে চট্টগ্রামের ১৬৫ পোশাক কারখানা

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ইস্যুতে চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারেÑ এমন আশঙ্কায় মনিটরিং শুরু করেছে বিজিএমইএ ও শিল্প পুলিশ। অধিকাংশ কারখানায় বেতন ভাতা নিয়ে অসন্তোষ না থাকলেও সাব কন্ট্রাক্টের কারখানাগুলো নিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ ১৬৫টি কারখানা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে শিল্প পুলিশ।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ক্রাইসিস কমিটির সভাতেও তৈরি পোশাক খাতের অস্থিরতার বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য শিল্প পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিল্প পুলিশের পরিসংখ্যান মতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মোট পোশাক কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ২০৮টি। এর মধ্যে ৬৯৭টি রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি)। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার সংখ্যা ৩৫১টি। আর বিকেএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১১৫টি।

রমজানের শুরুতেই চট্টগ্রামের স্যানম্যান গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন হরাইজন লে-অফ ঘোষণা করা হলে বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সেখানে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ভবনও ঘেরাও করে। পরে পুলিশ ও বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় সব বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয় শ্রমিকদের।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বেশিরভাগ কারখানায় সাধারণত পরবর্তী মাসের ৬-৭ তারিখের দিকে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়ে থাকে। এবার ঈদের আগে মাত্র এক দিন (৩ জুন) অফিস খোলা থাকবে। যে কারণে ঈদের আগে মে মাসের বেতন পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন শ্রমিকরা।

শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স) কামরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, অতীতে বিভিন্ন সময় যেসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে যেসব কারখানায় বেতন ভাতা নিয়ে সমস্যা রয়েছে তা পর্যালোচনা করে মোট ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। চট্টগ্রামের শিল্প এলাকাগুলোকে তিনটি পৃথক জোনে ভাগ করে মনিটরিং ও মোটিভেশনের কাজ চলছে।

তিনি জানান, গত বুধবার ডবলমুরিং জোনে ও বৃহস্পতিবার বায়েজিদ জোনে গার্মেন্টস মালিক, শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও কলকারখানা পরিদপ্তরের কর্মকর্তারাও এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে যাতে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সবাইকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

কামরুল হাসান বলেন, কারখানা মালিকরা যথাসময়ে বেতন-বোনাস দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। আগামী সোমবার কালুরঘাট শিল্প জোনে আলফা টেক্সটাইলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপরও কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য শিল্প পুলিশের ৭০০ সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে ৩৫১টি কারখানা চালু আছে। এর মধ্যে সরাসরি পোশাক রফতানির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০০টি। অবশিষ্ট ১৫১টি প্রতিষ্ঠান সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করে থাকে। ঈদকে সামনে রেখে বেতন-বোনাস নিয়ে যাতে কোথাও অসন্তোষ সৃষ্টি না হয় সেজন্য বিজিএমইএর পরিচালক মো. আতিকের নেতৃত্বে একটি টিম কাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ পরিচালক মো. আতিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেতন-বোনাস নিয়ে যাতে কোথাও কোনো ঝামেলা না হয় তা বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। যেসব কারখানা একটু খারাপ অবস্থায় আছে, আমরা সেগুলো চিহ্নিত করে মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। আশা করি কোথাও কোনো সমস্যা হবে না।

এদিকে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটির সভায় ২৫ মে’র আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত ওই সভায় শ্রমিকরা যাতে আন্দোলনের নামে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে সে ব্যাপারে কর্র্তৃপক্ষকে আন্তরিক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।