প্রবীর সিকদারকে ফরিদপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানি, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিশিষ্টজনদের নিয়ে ফেইসবুক ও অনলাইন পত্রিকায় কটূক্তি, বিষোদগার ও মানহানিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ এনে প্রতিবাদে মানববন্ধন-সমাবেশ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ফরিদপুরের সর্বস্তরের সচেতন হিন্দু সমাজ’র ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পরে তার দুটি কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। তবে প্রবীর সিকাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার লেখালেখির কারণে ক্ষুব্ধ সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের অনুগতরা এ মানববন্ধন-সমাবেশ করেছে। এর আগে গত ৮ মে গ্রামের বাড়িতে আমার বোন ও ভগ্নিপতির ওপর হামলা হয়েছে।’   

ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশ নেয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন। এতে জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদর শাখার সাবেক কমান্ডার ও ঝিলটুলী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরের সেবায়েত মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ চক্রবর্তী ভানু সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। বক্তারা প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ এনে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, প্রবীর সিকদার দুর্বৃত্তদের হামলায় পা হারানোর পর আজকের এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব প্রচেষ্টায় সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা করিয়ে তার পা পুনঃস্থাপন করান। আজ তিনি ফেইসবুকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছেন।

প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ সাহা। তিনি বলেন, ‘প্রবীর সিকদার যেভাবে ফেইসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন তাতে তাকে আর ক্ষমা করা যায় না। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা হাসান বলেন, ‘আজকের এই কর্মসূচির সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগ একাত্মতা প্রকাশ করছে। যেভাবে প্রমাণ ছাড়া আপনি একের পর এক নেতৃবৃন্দের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, আপনার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানহানি মামলা হওয়া উচিত। প্রয়োজনে আপনার বিরুদ্ধে ঝাড়–মিছিল বের করব।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সাহা ও অ্যাডভোকেট সুচিত্রা শিকদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ, জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারী, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতা অ্যাডভোকেট স্বপন পাল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজদ ফাইন, ফরিদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল প্রমুখ।