সপ্তমে এসে ফুরোল অপেক্ষা

অবশেষে একটা ট্রফি জয়ের অপেক্ষা ফুরোল বাংলাদেশের। ১০ বছর আগে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠেও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল টাইগারদের। এরপর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলে আরো পাঁচ আসরে ফাইনালে ওঠেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি টাইগারদের। অবশেষে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতে অপেক্ষার অবসান হলো টাইগারদের। সপ্তমে এসে ফুরোল অপেক্ষা।

শুক্রবার বন্ধুর পথ পেরিয়ে জয় তুলে নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বৃষ্টি ম্যাচটাই পণ্ড করতে চেয়েছিল। যদিও ম্যাচ পণ্ড হলে চ্যাম্পিয়ন হতো আসরে অপরাজিত থাকা বাংলাদেশই। তবে আয়ারল্যান্ডের আবহাওয়া বদলাতে সময় নিল না।

ফের ম্যাচ শুরু হলো। তবে তা নেমে এল ২৪ ওভারে। আগে ব্যাট করে ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মূলত দলটি ২০.১ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৩১ রান সংগ্রহ করার পর বৃষ্টি নামে। পরে ম্যাচ নেমে আসে ২৪ ওভারে। উইন্ডিজ সেখানে ১ উইকেটে ১৫২ রান করলেও বৃষ্টি আইনে ২১০ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। যা ৫ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখে পেরিয়ে গেছে মাশরাফীর দল।

দারুণ ব্যাট করেছেন সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন। আয়ারল্যান্ড থেকেই শনিবার বিশ্বকাপের বিমান ধবে টাইগাররা। তার আগে দল নিয়ে গেল শুধুই আত্মবিশ্বাস।

এমন মধুর দিনে আগের বেদনাগুলো মনে করলে খারাপ কি। দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের আগের ছয় ফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গের গল্পগুলো-

ত্রিদেশীয় সিরিজ, ২০০৯

বহুজাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের শুরুটা এই সিরিজ দিয়ে। সিরিজের অপর দুই দল ছিল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। ফাইনাল হয়েছিল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা মধ্যকার। জয়ের জন্য লঙ্কানদের ১৫৩ রানের লক্ষ্য বেঁধে দেয় বাংলাদেশ। ছোট লক্ষ্য দিয়ে ৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ দারুণ জমিয়ে তুলে তারা। কিন্তু শেষ দিকে তাণ্ডব হয়ে আসেন শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন। তার বলে ১৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংসে ২ উইকেটের হার মানতে হয় মোহাম্মদ আশরাফুলদের।

এশিয়া কাপ, ২০১২

দুই শক্তিশালী ভারত-শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে দিয়ে ঘরের মাঠে দাপটের সঙ্গে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ফাইনালেও দারুণ আশা জাগায় টাইগররা। মাশরাফী, সাকিব আল হাসান ও আব্দুর রাজ্জাকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৩৬ রানে থেমে যায় পাকিস্তানের রানের চাকা। সাধ্যের মধ্যে লক্ষ্য পেয়েও ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। সেদিন টাইগারদের ২ রানের হারে কেঁদেছিল গোটা দেশ।

এশিয়া কাপ, ২০১৬

সেবারও এশিয়া কাপের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। এবার পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে দিয়ে ফাইনালে উঠে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ওই আসরের ফাইনাল বৃষ্টির কারণে নিয়ে আসা হয় ১৫ ওভারে। তাতে ভারতের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ১২০ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে সাত বল হাতে রেখে মাত্র ২ উইকেটেই জয় নিশ্চিত করে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।

ত্রিদেশীয় সিরিজ, ২০১৮

এ যেন ২০০৯ সালের পুনরাবৃত্তি। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে দাপুটে পারফরম্যান্সে ফাইনালে ওঠে মাশরাফী বাহিনী। জিম্বাবুয়েকে বিদায় করে আবার মুখোমুখি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমানের অসাধারণ বোলিংয়ের সামনে খুব বেশি পুঁজি পায়নি লঙ্কানরা। ২২১ রানে অলআউট। জবাবে ১৪২ রানে গুঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে একাই লড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ (৭৬)।

নিদাহাস ট্রফি, ২০১৮

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টির ওই সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স এক কথায় ছিল নজরকাড়া। আয়োজক শ্রীলঙ্কাকে ছিটকে দিয়ে ফাইনালে ওঠে সাকিব আল হাসানের দল। কলম্বোর প্রেসাদাসা স্টেডিয়ামে ফাইনালেও ছিল বাংলাদেশের দাপট। টিম ইন্ডিয়ায় ছিলেন না বিরাট কোহল ও মহেন্দ্র সিং ধোনির মত সিনিয়র খেলোয়াড়রা। বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ১৬৭ রান তাড়া করতে নামে রোহিত শর্মার দল। সৌম্য সরকারের করা শেষ ওভারে প্রায় জিতেই গিয়েছিল টাইগাররা। তবে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন দীনেশ কার্তিক।

এশিয়া কাপ, ২০১৮

দুবাইয়ের মরুর বুকে চোট জর্জর বাংলাদেশ সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সাকিব-তামিমকে ছাড়াই ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। দুবাই স্টেডিয়ামে ফাইনালে লিটন দাসের সেঞ্চুরির পরও ২২২ রানের বেশি যেতে পারেনি মাশরাফী বাহিনী। এই রানেই ভারতকে কাঁপিয়ে দেয় বাংলাদেশ। জয়ের সুবাসও পেয়েছিল। এবার বাংলাদেশকে হতাশায় ডোবান কেদার যাদব। চোটে পড়ার পরও লড়ে গেছেন তিনি। শেষ ওভারে ভারতকে জেতান কেদার। আশা জাগিয়েও ৩ উইকেটে হারের হতাশায় পুড়ে বাংলাদেশ।