বাজিতপুরে চলন্ত বাসে নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার ১২ দিন পার হলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বোরহান মিয়া এবং মামলার এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামি আবদুল্লাহ আল মামুন ও আল-আমিন। তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু এবং তার সহকারী লালন মিয়া তারা দুজন ছাড়াও বোরহান মিয়া নামে এক ব্যক্তি তানিয়াকে ধর্ষণ করে বলে জানিয়েছেন। বাসচালক নূরুর খালাতো ভাই বোরহানই তানিয়াকে প্রথম ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের আগে তানিয়াকে বাসের মেঝেতে ফেলে দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে ওই দুজন জবানবন্দিতে জানিয়েছেন। এসব জবানবন্দির পর তানিয়ার পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টিতে ঘটনার প্রধান খলনায়ক এই বোরহান। কিন্তু বোরহান এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তানিয়ার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বোরহান এবং মামলার এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামির গ্রেপ্তার না হওয়াকে রহস্যজনক বলছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোরহান স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর খালাতো ভাই এবং একই পরিবহনের আরেকটি বাসের চালকের সহকারী। তার বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ার বীর উজুলী গ্রামে।
তানিয়ার বাবা ও মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন বোরহান এবং মামলার এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামির গ্রেপ্তার না হওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তে মাথায় আঘাত করে হত্যার প্রমাণ মিলেছে, জবানবন্দিতেও এসেছে বোরহান ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এতসব প্রমাণ হওয়ার পরও গত ১২ দিনেও পুলিশ তাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না তা বুঝতে পারছি না। আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যার বিচার কি আমি এই সমাজে পাব না?’
তানিয়ার ভাই কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি এই ঘটনার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাসের হেলপার বোরহান মিয়া সরাসরি জড়িত ছিল। বোরহানই ধর্ষণ ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। কিন্তু ঘটনার ১২ দিন পার হয়ে গেলেও সে গ্রেপ্তার হচ্ছে না। পুলিশ ইচ্ছে করলেই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু করছে না। পুলিশ শুধু আমাদেরকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।’
তানিয়ার গ্রামের বাড়ি লোহাজুরীর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে। পুলিশের ভূমিকা আরও গতিশীল করতে হবে।’
বোরহান ও এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামির গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সারোয়ার জাহান বলেন, ‘আমরা তিনজনের জবানবন্দিতে বোরহানের সরাসরি জড়িত থাকার কথা প্রমাণ পেয়েছি। এ ছাড়া এজাহারভুক্ত আসামি আল-আমিন ও আবদুল্লাহ আল মামুনেরও এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছি। তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘মামলার তদন্তে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তিনজন আসামির জবানবন্দিতে বোরহানসহ এজাহারভুক্ত বাকি দুই আসামির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তিনটি টিম মাঠে কাজ করছে। শিগগির তাদের গ্রেপ্তার করে আপনাদের সামনে হাজির করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’
গত ৬ মে ঢাকার কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত নার্স তানিয়া বাসে করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাহেরচর গ্রামের নিজ বাড়িতে আসছিলেন। পথে বাজিতপুরের জামতলী গজারিয়া এলাকায় তাকে স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসের চালক নূরু এবং তার সহকারী লালন মিয়াসহ কয়েকজন ধর্ষণ করে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর ফেলে রেখে যায়। তানিয়া কটিয়াদীর লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে।