চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড আবুল কালাম (৪৮) নামে এক যুবদল নেতা প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়নের দেলিবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনার পর ওই দিনই রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিহত কালাম একই ইউনিয়নের দেলিপাড়ার বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি বলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহুরুল আলম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা এবং পুলিশ জানায়, মাটি ভরাটের ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় মুরাদ-হারেছ গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল কালাম-জাফর গ্রুপের। এর জেরে রাত ৮টার দিকে দেলিবাজারের আরিফের দোকানের সামনে মুরাদ ও হারেছের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক কালামের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কালামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সেখানে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আহত কালামকে রাত সাড়ে ১১টায় হাসপাতালে আনার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ নয়জনকে আটক করেছে। পরে গতকাল শুক্রবার নিহতের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক জুয়েল বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে সীতাকু- থানায় মামলা করেন। আটক নয়জনের মধ্যে ওই মামলার আসামি মুরাদ ও হারেছ রয়েছেন।
নিহতের ছেলে জুয়েল বলেন, ‘ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা আমার বাবা সেখানেই পড়ে ছিল। আরও আগে হাসপাতালে নেওয়া হলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। প্রকাশ্যে হত্যা করা হলেও হামলাকারীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি, এমনকি দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কেউ থানায়ও খবর দেয়নি।’
সীতাকু- থানার ওসি দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ামাত্র আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
নিহত কালামের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে থানায় তিনটি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি দেলওয়ার।
এদিকে কালামের ওপর হামলার পর ওই দিন গভীর রাতে তার সমর্থকরা পুলিশের হাতে আটক মুরাদ, হারেছ, সোহেল ও আলমগীরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ছাড়া আরিফ নামে এক ব্যক্তির একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়।