হার্টফেলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের জামাতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চিকিৎসক রাজন কর্মকারের (৪২) মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্টফেল উল্লেখ করার কথা জানিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সেলিম রেজা। গতকাল দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘রাজন কর্মকারের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন চার-পাঁচ দিন আগেই শেরেবাংলা নগর থানায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হার্টফেলের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত করার সময়ই বোঝা গিয়েছিল হার্টফেলের ফলে তার মৃত্যু।’
রাজন কর্মকার বিএসএমএমইউর ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত ১৭ মার্চ ভোর পৌনে ৪টার দিকে খাদ্যমন্ত্রীর বড় মেয়ে কৃষ্ণা রানি মজুমদার অজ্ঞান অবস্থায় রাজনকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুকে রহস্যজনক উল্লেখ করে রাজনের মামা সুজন কর্মকার ও সহকর্মী চিকিৎসকেরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেন। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের দাবিও জানান তারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত হয়।
গতকাল মুঠোফোনে রাজন কর্মকারের মামা সুজন কর্মকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শেরেবাংলা নগর থানার ওসি কয়েক দিন আগে আমাকে ফোন দিয়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থানায় এসেছে বলে জানান। রাজনের ন্যাচারাল মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। রাজনের মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দু-এক দিনের মধ্যে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব কী করা যায়।’
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে হাসপাতাল থেকে রাজন কর্মকারের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থানায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্টফেলকে উল্লেখ করা হয়েছে। ন্যাচারাল মৃত্যুর কারণে কোনো মামলা করা হয়নি।’