লাইন ছোট, ঝক্কি বেশি। ২ তারিখের টিকিট নেই, তিন তারিখের নেই। ৪ তারিখের কথা জিজ্ঞেস করলে তো কাউন্টার কর্মীদের মুখে একরাশ বিরক্তি। শ্যামলী পরিবহনের রাজধানীর কল্যাণপুর কাউন্টারের ব্যবস্থাপক আহসান হাবীব রীতিমতো বলেই বসলেন, ‘লাখ টাকায়ও পাবেন না ৪ জুনের টিকিট!’ অগ্রিম বিক্রি শুরু হতে না হতেই উত্তরাঞ্চলের বাসের টিকিটের এই অবস্থা। দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তের টিকিট এদিক-সেদিক করে পাওয়া গেলেও উত্তরের যাত্রীরা তাও পাচ্ছেন না।
গতকাল শনিবার রাজধানীর দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, টিকিট-প্রত্যাশীদের ভিড় অনেকটাই কম। তবে কাক্সিক্ষত দিন, সময়ের টিকিট পাওয়া নিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে যাত্রীদের। কেউ কেউ পেলেও বেশিরভাগ যাত্রী টিকিট না পেয়ে হতাশা নিয়ে কাউন্টার ছেড়েছেন। এতে দুপুরের মধ্যে কাউন্টারগুলো শূন্য হতে থাকে। তবে যারা টিকিট পেয়েছেন তাদের মুখেও বিরক্তির শেষ নেই।
গতকাল সকাল ৯টায় কল্যাণপুরের শ্যামলী কাউন্টারে টিকিট করতে এসেছিলেন বেসরকারি অফিসে কর্মরত আব্দুল হামিদ। অফিস ছুটির দিনক্ষণ হিসাব করে টিকিট চাইলেন ৩ তারিখ রাতের। কাউন্টার কর্মী জানালেন, নেই। পরদিন সকালের? তাও নেই। শেষে অনুরোধ করলেন, যেভাবেই হোক, যেখানেই হোক একটা টিকিট জোগাড় করে দিতে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না। দিনাজপুরের টিকিট-প্রত্যাশী কলেজছাত্র আসাদুজ্জামান বলেন, ‘৪ তারিখ সরকারি ছুটির শুরু হিসাব করে ২ তারিখের টিকিট নিতে এসেছি। কিন্তু ওই দিনের টিকিট সব শেষ।’ জয়পুরহাটের টিকিট-প্রত্যাশী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রাশেদ বলেন, ‘৪ তারিখ থেকে ছুটি শুরু। তাই ৩ তারিখ রাতে অথবা যেকোনো সময় যেতে চাইছিলাম। কিন্তু কোথাও টিকিট পাচ্ছি না।’
গাবতলীতে হানিফ এন্টারপ্রাইজের প্রধান কাউন্টারের সামনে ব্যানারে লেখা : ৩ ও ৪ তারিখের টিকিট নেই। কাউন্টারে দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব জেলার ৩ ও ৪ তারিখের টিকিট বিক্রি হয়েছে শুক্রবার। ২ তারিখের অল্প কিছু টিকিট থাকলেও সেগুলো শেষ হওয়ার পথে।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাবতলীর ম্যানেজার মোশারফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকিট-প্রত্যাশীদের ভিড় না থাকলেও এখন যারা টিকিট চাইছেন অধিকাংশকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ কাক্সিক্ষত ৩০ মে, ৩ ও ৪ জুনের টিকিট শেষ। ডিপজল পরিবহনের কাউন্টার-প্রধান আকমল হোসেন বলেন, ‘ঈদে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে তাদের বাস কমিয়ে ২০টি করা হয়েছে। কিছু বাস রিজার্ভে রাখা হয়েছে। এতে টিকিটের সংখ্যাও কমে গেছে।’
পঞ্জিকা অনুযায়ী এ বছরের রমজান মাস ২৯ দিন ধরে ৪ থেকে ৬ জুন ঈদুল ফিতরের ছুটি নির্ধারণ করা আছে। সেই হিসাবে ৫ জুন ঈদ। রোজা ৩০টি হলে ঈদ হবে ৬ জুন, সে ক্ষেত্রে ৭ জুনও ঈদের ছুটি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কারণে ৩ তারিখের টিকিটের চাহিদা বেশি বলে মনে করছেন বাস কোম্পানির কর্মকর্তারা।
গত ৯ মে বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সভায় ১৭ মে থেকে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ৩০ মে থেকে ঈদযাত্রার আগাম বাস রাজধানী ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা।