উপমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলাম দিসাকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার দুপুরে ঢাবির সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দিসা।
দিসা জানান, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নাম ব্যবহার করে মোতালেব প্লাজার একটি বাসা থেকে তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এর সাথে বদরুন্নেছা কলেজ ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিমা জড়িত উল্লেখ করে, তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান দিসা। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
দিসা বলেন, শনিবার দুপুরে রিমা নামে একজন ফোন করে বলেন, উপমন্ত্রী নওফেল আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর উপমন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে একজন ফোনে বলেন, ‘তোমার ওপর হামলার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তুমি সন্ধ্যায় রিমার সঙ্গে চলে এসো। আমি তোমাকে আপার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে নিয়ে যাবো’।
তিনি বলেন, সন্ধ্যায় রিমা মোতালেব প্লাজার বাসায় আসে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এর মধ্যে উপমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দিসা ও তার সঙ্গে থাকা অন্যদের জানান, তিনি রিমা নামে কাউকে পাঠাননি এবং ঘটনার কিছুই জানেন না। নওফেল পরিচয়ে যিনি ফোন করেছিলেন তিনি ভুয়া। এটা জানার পর তিনি বুঝতে পারেন তাকে কৌশলে বাসা থেকে অপহরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। দিসা ও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এটি বোঝার পর রিমা বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
আমাকে কৌশলে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল দাবি করে দিসা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি এখন নিরাপদ বোধ করছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাইছি। কালকের ঘটনার পর থেকে আমি আতঙ্কিত।’
উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতরা মধুতে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের হামলায় চোখে আঘাত পান দিসা।
অপহরণের চেষ্টা ওই ঘটনার ধারাবাহিকতা কিনা তা জানতে চাইলে দিসা বলেন, ‘এটার বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে একটি চক্র আমাকে অপহরণের চেষ্টা করেছে। আমি বিচার চাই। রিমা নামে যে মেয়ে এসেছিল, সে বদরুন্নেছা কলেজ ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তাকে আমি চিনি। তাকে গ্রেপ্তার করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’