পাইলটদের দুঃস্বপ্নের বিমানবন্দর

বিশ্বের এমন অনেক বিমানবন্দর রয়েছে, যেখানে বিমান ওঠানামার সময় পিলে চমকে ওঠে। প্রাণটাকে যেন হাতের মুঠোয় নিয়ে থাকতে হয়! পাইলটের একটু ভুলেই ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কোথাও ছোট রানওয়ে কোথাও বা উঁচু পাহাড় ঘেরা কিংবা সমুদ্রের খুব কাছে বা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে। এসব বিমানবন্দরে অনেক পাইলটই অবতরণ করতে চান না। রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে বিপজ্জনক, ঝুঁকিপূর্ণ এমন কিছু বিমানবন্দর নিয়ে লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ

 

পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভুটান

বিশাল বিশাল পর্বত শৃঙ্গের মাঝে ছোট্ট একটা সমতল ভূমিতে  ভুটানের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পারো। আশপাশের পাহাড়গুলোর উচ্চতা ১৮ হাজার ফুট পর্যন্ত। হিমালয়ের কারণে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় বিমানবন্দরটিতে উড়োযান চলাচল প্রায় সময়ই বিঘিœত হয়। এ কারণেই এ বিমানবন্দরটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম বিমানবন্দরের মধ্যে একটি। সাধারণত রানওয়েতে বিমান নামে সোজা, আস্তে আস্তে গতি আর উচ্চতা কমিয়ে। কিন্তু এই বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ করতে হয় ঝুপ করেই, এঁকেবেঁকে। এমনকি অবতরণের পর প্রচ- গতিতে চলমান অবস্থায়ই বিমানকে বাঁক নিতে হয়।

এই জায়গাটি এতটাই ভয়ানক যে ২০১১ সাল পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে মাত্র আটজন পাইলট ছিলেন যাদের এখানে বিমান পরিচালনার সনদ। তবে এখন এর সংখ্যা বেড়েছে। পারদর্শী বৈমানিক ছাড়া সেখানে উড়োজাহাজ পরিচালনা করা একেবারেই অসম্ভব।

বিমানবন্দরটি ভুটানের পারো জেলা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে ‘পারো ছু’ নদীর তীরে অবস্থিত। ১৯৮৩ সালে সামরিক হেলিপ্যাড থেকে বিমানবন্দরে রূপ নেয় পারো। ৬ হাজার ৪৪৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে রানওয়ের পারো বিমানবন্দরে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয় ছোট আকারের উড়োজাহাজ। বিমানবন্দরে এখন পর্যন্ত ভুটানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা দ্রুক এয়ারের বিমান ছাড়া অন্য কোনো এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট নেই। শুধু দিনের আলোতেই এ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল করে, রাতের বেলায় বন্ধ থাকে।

তেনজিং-হিলারি বিমানবন্দর, নেপাল

বিশ্বের বিপজ্জনক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি তেনজিং-হিলারি বিমানবন্দর। মাউন্ট এভারেস্টে চড়ার মতোই কঠিন এখানে বিমান অবতরণ করা। ঝড়ো বাতাস, ঘন মেঘ এবং ছোট রানওয়ে, উঁচু এভারেস্ট ইত্যাদি কারণে এখানে প্লেনের নিয়ন্ত্রণ রাখা খুব কঠিন। ২০১০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিস্ট্রি টেলিভিশন চ্যানেল একে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে উল্লেখ করে।

বিমানবন্দরটির অবস্থান নেপালের পূর্বাঞ্চলের সাগর মাথা অঞ্চলের লুকলা শহরে। তাই প্রথমে এর নাম ছিল লুকলা বিমানবন্দর। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে। তখন বিমানবন্দরের নির্মাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়ী স্যার এডমন্ড হিলারি। তার শেরপা ছিলেন শেরপা তেনজিং নোরগে। সেই সময় স্থানীয় লোকজন বিমানবন্দরের জন্য জায়গা দিতে রাজি ছিল না। এডমন্ড নিজের টাকা দিয়ে জমি কেনেন এই বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য। পরে ২০০৮ সালে তাদের সম্মানে এই বিমানবন্দরের নতুন নাম রাখা হয় তেনজিং-হিলারি বিমানবন্দর।

ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও এই বিমানবন্দরটি বেশ জনপ্রিয়। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে লুকলা থেকে অধিকাংশ পর্বতারোহী মাউন্ট এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে যান।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট প্রায়ই দেরি হয় বা বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়। এখানে নেই কোনো উন্নত ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম। নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ আলোর ব্যবস্থা। বৈদ্যুতিক বাতি থাকলেও তা যথেষ্ট নয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৯০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরের রানওয়ে ৫২৭ মিটার। পিচের আস্তরের রানওয়ের এই বিমানবন্দরে শুধুমাত্র হেলিকপ্টার ও ছোট বিমান অবতরণ করতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বিমানবন্দরে ঘটেছে অনেক দুর্ঘটনাও। মারাও গেছেন অনেকে।

 

প্রিন্সেস জুলিয়ানা বিমানবন্দর, নেদারল্যান্ডস

১৯৪৪ সালে নেদারল্যান্ডসের সম্রাজ্ঞী জুলিয়ানা এ বিমানবন্দরে প্রথম অবতরণ করলে তার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় প্রিন্সেস জুলিয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরটি অবস্থিত ক্যারিবীয় দ্বীপ সেন্টমার্টিনের সৈকতের পাশে। ক্যারিবিয়ানের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হলো এটি।

সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের একেবারে মাথার ওপর দিয়ে বিমানকে ওঠানামা করতে হয়। বিপজ্জনক এলাকা লেখা থাকলেও পর্যটকরা আনন্দ নিতে এখানে ভিড় জমান আর ঘটে নানা সময়ে নানা দুর্ঘটনা। বিমানবন্দরটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণও এটি। তাছাড়া বিমান অবতরণ করতে গেলে সৈকতের ওপর দিয়ে সুরক্ষা বেড়া, ব্যস্ত রাস্তা পার হয়ে তারপর রানওয়েতে প্রবেশ করতে হয়। যারা সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকেন মনে হবে মাথার ওপর হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারবেন বিমান।

বিমানবন্দরটি ১৯৪২ সালে যখন নির্মাণ করা হয় তখন বড় বিমান অবতরণের কথা মাথায় রাখা হয়নি। কারণ, তখন ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আর তখন যাত্রী পরিবহনের চেয়েও যুদ্ধবিমানে গোলাবারুদ পরিবহন করা হতো। তখন বড় রানওয়ের প্রয়োজন হয়নি। তাই এর রানওয়েও ছোট, মাত্র ৭,১৫০ ফুট, যা বড় বা ভারী বিমান অবতরণের জন্য নিরাপদ নয়। তবে এখন বড় ও ভারী বিমানও এখানে অবতরণ ও উড্ডয়ন করে, যার ফলে পাইলটদের বেশ ঝুঁকি নিতে হয়। বিমান ওঠানামার সময় জেট ব্লাস্টে সৈকতে থাকা অনেক পর্যটকও আহত হন।

 

কোর্চেভেল বিমানবন্দর, ফ্রান্স

বিমানবন্দরের রানওয়ে থাকার কথা সমতল। কিন্তু উঁচু-নিচু রানওয়ের কথা শুনেছেন কখনো! ফ্রান্সের কোর্চেভেল বিমানবন্দর তেমনি এক ভয়ংকর রকমের উঁচু-নিচু রানওয়ের বিপজ্জনক বিমানবন্দর। এটি ফ্রান্সের আল্পসে অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ হাজার ফুট উঁচুতে। বিমানবন্দরটির রানওয়ের চারপাশ ঢাকা থাকে তুষারে। ঝপ করে রানওয়েতে নেমে যাওয়া বিমানের গতি কমাতে না পেরে প্রায়ই বিমান ঢুকে যায় চারপাশে তুষারের মধ্যে। তা ছাড়া এই বিমানবন্দরে নেই কোনো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থা। রানওয়েতে নেই কোনো ধরনের আলোর ব্যবস্থা। রয়েছে মাত্র একটি রানওয়ে। ১৯৮০ সালে নির্মিত এই বিমানবন্দরের রানওয়ে শুধু উঁচু-নিচুই নয়, এর রানওয়েও খুবই ছোট। একে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সব থেকে ছোট রানওয়ের বিমানবন্দর। এর দৈর্ঘ্য মাত্র ১৭০০ ফুট। শুধুমাত্র এর রানওয়ের কারণেই যেকোনো পাইলট এখানে অবতরণ করতে আতঙ্কিত হন। আল্পস পর্বতমালা পার হয়ে সতর্কতার সঙ্গে অসমান এই ছোট রানওয়েতে অবতরণ করতে পাইলটদের অনেক কসরত করতে হয়। তার সঙ্গে যদি যোগ হয় নিচু মেঘ আর ঘন কুয়াশা, তাহলে এর ঝুঁকির কথা আর বলার প্রয়োজন নেই। এই এলাকাটি বিখ্যাত স্কি এরিয়া হিসেবে। বিমানগুলো ওঠানামা করে শুধু পর্যটকদের জন্য। এই বিমানবন্দরে ছোটখাটো বিমান অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে।

 

মেডেইরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পর্তুগাল

মেডেইরা বিমানবন্দরের একপাশে উঁচু পাহাড়, আরেক পাশে সমুদ্র। পাহাড়ের পাদদেশে সমুদ্রে অসংখ্য পিলারের ওপর তৈরি এ বিমানবন্দরের রানওয়ে। আর তাই এই বিমানবন্দরের রানওয়ে খুব ঝুঁকিপূর্ণ। ঘাড় সোজা করে একেবারে বাজপাখির মতোই নামতে হয় বিমানকে। অভিজ্ঞ পাইলটদের জন্যও বিমান অবতরণ করাটা খুব কষ্টসাধ্য। অনেক অভিজ্ঞ বৈমানিকও এখানে বিমান চালনায় হিমশিম খান। এই বিমানবন্দরটি অবস্থিত পর্তুগালের সান্তাক্রুজে। বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয় ১৯৬৪ সালে। তবে এটি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিমান চলাচলের জন্য চালু করা হয় ১৯৭২ সালে। ২০১৬ সালে এই বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা হয়। ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্মস্থান মেডেইরাতে। তার অধিনায়কত্বে ইউরো কাপ জয় করে পর্তুগাল। আর সেজন্য রোনালদোকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মেডেইরা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

বিমানবন্দরটি যখন নির্মাণ করা হয় তখন এর ছোট রানওয়ের জন্য এটি বিখ্যাত ছিল। ১৯৮২ সালে এই বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬৫০ ফুট বাড়ানো হয়। বর্তমানে এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৫২৪৯ ফুট। বড় ও ভারী বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে হলে প্রয়োজন ১০ হাজার ফুট রানওয়ে। আর সাগরের ওপর পিলার দিয়ে তৈরি রানওয়ে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একটু এদিক সেদিক হয়ে গেলে বিমান রানওয়ে থেকে অবতরণ করবে সাগরে।

 

জিব্রাল্টার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জিব্রাল্টার

স্পেনের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত ছোট একটি ব্রিটিশ এলাকার নাম জিব্রাল্টার। এখানেই রয়েছে এই বিমানবন্দর। মূলত এলাকাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সমতল ভূমি না থাকায় এর চার লেনের হাইওয়ের ওপর দিয়ে রানওয়ে বানানো হয়েছে। এই সড়কে যান চলাচল করে প্রতিনিয়ত। অবিশ্বাস্য হলেও কথাটি কিন্তু সত্যি। এই হাইওয়েটি উইনস্টন চার্চিল অ্যাভিনিউ থেকে স্পেন ও জিব্রাল্টারের মধ্যে সংযোগকারী সড়ক।

আমাদের দেশে ট্রেন চলাচলের জন্য যেমন রাস্তার উভয় পাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়, ঠিক তেমনিই বিমান আকাশে ওড়ার সময় সেখানে দুই পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই এখানে ট্রাফিক সংকেত মানা অপরিহার্য। আর তা না হলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। তা ছাড়া বিমানবন্দরের সঙ্গেই রয়েছে বিশালাকৃতির উঁচু জিব্রাল্টার

পাহাড়। আর তাই ওঠানামার সময় নিতে হয় বাড়তি সতর্কতা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের জরুরি বিমানঘাঁটি হিসেবে চালু হয় এটি। তবে তখন শুধু নৌবাহিনীর উড়োজাহাজই চলাচল করতে পারত এখানে। যুদ্ধের পর বড় করা হয় বিমানবন্দরটি। এর ছোট রানওয়ের উভয় প্রান্তেই ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল হওয়ায় পাইলটদের বায়ুর কারণে বেশ চাপের মধ্যে পড়তে হয়। অনেক পাইলটই এই রানওয়ে ধরে নামতে চান না বলে এই বিমানবন্দরেই অবতরণ করে না। প্রতি সপ্তাহে মাত্র ৩০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে এই বিমানবন্দরে। এখান থেকে শুধু যুক্তরাজ্যেই যাতায়াত করা যায়। বেশির ভাগ বিমানই যাওয়া-আসা করে লন্ডন, বার্মিংহাম অথবা ম্যানচেস্টারে।

 

কঙ্গোহাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ব্রাজিল

সাধারণত দেখা যায়, বিমানবন্দরের আশপাশে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত উঁচু ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হয় না। এর কারণ হলো বিমান যাতে নিরাপদে অবতরণ করতে পারে। কিন্তু ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি ঠিক তার উল্টো। এর চারপাশ ঘিরে রয়েছে অসংখ্য উঁচু ভবন। রয়েছে বিশালাকার লম্বা লম্বা গাছ, যা বিমান অবতরণ করার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। এই বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান অবতরণ করতে হলে প্রয়োজন দক্ষ হাত। বিমানকে বিভিন্ন ভবনের পাশ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রানওয়েতে নামাতে হয়। এ কারণে বিশ্বের বিপজ্জনক বিমানবন্দরের তালিকায় রয়েছে এই বিমানবন্দরের নাম।

বিমানবন্দরটির চালু করা হয় ১৯৩৬ সালে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরের রানওয়ে মাত্র দুটি। বিমানবন্দরটি যখন নির্মাণ করা হয় তখন এর রানওয়ে ছিল খুব ছোট মাত্র ৯৮৪ ফুট। পরে এটি বাড়িয়ে করা হয় ২৬৩১ ফুট। আশপাশের ভবন ও ছোট রানওয়ের জন্য প্রায়ই এখানে ঘটে দুর্ঘটনা। রানওয়ের ডিজাইনের কারণে বৃষ্টির দিনে সেটা অনেক বেশি পিচ্ছিল হয়ে যায়। যার কারণে বিমান ছিটকে পড়ে রানওয়ে থেকে। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় নিহত হলেও ২০০৭ সালে ঘটে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে নিহত হন ১৯৯ জন।

 

টনকনটিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হন্ডুরাস

হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুসিগালপাতে অবস্থিত এই বিমানবন্দর। অসামরিক বিমানের পাশাপাশি সামরিক বিমানও চলাচল করে এখান থেকে। পর্বতঘেরা ও ছোট রানওয়েবিশিষ্ট এই বিমানবন্দরটিকে পৃথিবীর অন্যতম ঘাতক বিমানবন্দর হিসেবে বলা হয়ে থাকে। নানা ধরনের বাধা পার হয়ে এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়। যেমন অবতরণ করতে হলে বিভিন্ন পর্বতের মাঝখান দিয়ে উড়ে আসতে হয়, বিমানকে কিনারা দিয়ে ৪৫ ডিগ্রি বাঁক নিতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া তীব্র বাতাস তো রয়েছেই। উপত্যকার ওপর অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩২৯৪ ফুট ওপরে। এর রয়েছে ৭০০০ ফুট রানওয়ে। বিমানবন্দরটি চালু হয় ১৯৩৪ সালে।

গিসবর্ন বিমানবন্দর, নিউজিল্যান্ড

বিপজ্জনক বিমানবন্দরের তালিকায় রয়েছে নিউজিল্যান্ডের গিসবর্ন বিমানবন্দর। এর অন্যতম একটি কারণ হলো রানওয়ের মাঝখান দিয়েই চলে গেছে একটি রেললাইন। সেখানে ট্রেন চলাচল করে হরহামেশা। শুধু এ কারণেই এটি অন্য সব বিমানবন্দর থেকে একেবারে আলাদা।

বিমানবন্দরটির মোট আয়তন প্রায় ১৬০ হেক্টর। ঘাসের রানওয়ে তিনটি আর পাকা রানওয়ে একটি। আর সেই মূল রানওয়েরই বুক চিড়ে বেরিয়ে গেছে ‘পামারস্টোন নর্থ গিসবর্ন রেলওয়ে লাইন’। তাই যখনই বিমান আর রেলগাড়ি কাছাকাছি সময়ে চলে আসে, তখন যেকোনো একটি বন্ধ রাখা হয়। আর এই ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বলতে যেমন সহজ, কাজে মোটেই তেমন সহজ নয়। বিমানবন্দরটি অবস্থিত নিউজিল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গিসবর্ন শহরে।