প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের শান্তি ও উন্নয়নের ধারা যেন অব্যাহত থাকে, সে জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে পেশাজীবীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিবছর ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এবার সেটি না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমি প্রতিবার ঘুরে ঘুরে সবাইকে সাক্ষাৎ দিই। কিন্তু এবার পারলাম না। এখন বয়স হয়েছে, বৃদ্ধ হয়েছি, চোখেও ছানি পড়েছে। এই ১৫-১৬ দিন আগে চোখের ছানি অপারেশন করিয়েছি। ডাক্তারদের বিধিনিষেধ আছে।’ পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রচ- গরমের মধ্যে গণভবনে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। দেশের উন্নয়নে
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা সাড়ে তিন বছরে অসাধ্য সাধন করেছিলেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেদিন আমরা আমাদের ভাই-বোন হারিয়েছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাদের উন্নয়নের সম্ভাবনা হারিয়েছিল।’
দেশের হারিয়ে যাওয়া সম্মান ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
প্রধানমন্ত্রীর ইফতারে শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, ক্রীড়া ও বিবিধ শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। বিকেল ৪টা থেকে অতিথিদের গণভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। গণভবনের সবুজ লনে বিশাল প্যান্ডেলে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়। একে একে অতিথিরা প্যান্ডেলে প্রবেশ করেন। একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কেউ কেউ ব্যস্ত থাকেন সেলফি তুলতে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও প্রেস উইংয়ের সদস্যরা আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান।
সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর হামদ ও নাত পরিবেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ইফতার ভেন্যুতে আসেন ৬টা ২৪ মিনিটে।