রূপপুরে আসবাব কেনাকাটা

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের পর ব্যবস্থা : দুদক প্রধান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার ভবনের আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলা নিয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তারা।

সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পটির আবাসন অংশের আসবাব কেনার ওই অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯ মে উচ্চপর্যায়ের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর; যাদের সাত কার্যদিবসে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘উই আর ওয়েটিং ফর দ্য রিপোর্ট। যেহেতু মিনিস্ট্রি কাজ করছে, আমরা রিপোর্ট চাইব, আমরা রিপোর্ট দেখব, তারপর যদি দেখি প্রয়োজন আছে তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেব।’ তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দুদকের নজরে এসেছে। দুদক তার নিজস্ব পদ্ধতিতে এগোবে। কথা হলো দুর্নীতি হয়েছে বা হয়নি। গণমাধ্যমের যে তথ্য, সেখানে আমি দেখেছি। বালিশ, কেটলি এসব বিষয়। দেখুন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কিছু প্রসিডিউর আছে। একটা রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তো জাম্প দিতে পারি না। সেটা দেখতে হয়, বুঝতে হয়, চারদিক দেখতে হয়।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের দুটি কমিটি এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এসব দেখে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব দেখে আমি একটা অর্ডার করেছি। সেই অর্ডারটি হলোÑ সেই তদন্তে রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। সবাই যদি একই জিনিস নিয়ে কাজ করতে থাকি তাহলে জিনিসটা ভালো দেখায় না। তারা কী রিপোর্ট দেয়, সেই রিপোর্ট দেখে তখন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কনক্লুশন কী হয়, কারণ এটা সত্য না-ও হতে পারে। সব রিপোর্ট যে সত্য, তা-ও তো না।’

অতীতে অন্যান্য বিভাগ বা সংস্থার পাশাপাশি দুদককেও অনুসন্ধানে নামতে দেখা গেছে। এই দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে ভিন্ন কৌশল কেন জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘শোনেন, আমাদের কতগুলো প্রজেক্ট আছে যেগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে হঠাৎ করে আপনি জাম্প করবেন, সেখানে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। এটা জাতীয় বিষয়, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প বহুদিন ধরে চলছে। কিন্তু এটার বাস্তবায়নের কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও গুরুত্বপূর্ণ। সো জাস্ট ওয়েট। টেলিভিশনে দেখলাম একজন মন্ত্রী বলছেন যে, বেতন-ভাতা এগুলো সঠিক নয়। বালিশের ক্ষেত্রে এরকম একটা পরিস্থিতি তো হতেও পারে।’