লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিখুঁতভাবে পরিচালনা করায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রশংসা করেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করলেও জনগণের রায় সুরক্ষিত ও নিরপেক্ষ রাখার ভারত কমিশনের ওপরই বর্তায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত সোমবার এনডিটিভির সম্পাদকীয় পরিচালক সোনিয়া সিংয়ের লেখা একটি বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রণব মুখার্জি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐক্য ও সংহতি বজায়
রাখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের উচিত সেটা রক্ষা করা এবং সকল সন্দেহ দূর করা।’
তিনি বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হলে এটা মাথায় রেখেই করতে হয় যে সেটি দেশের সেবায় কাজ করবে। যদি গণতন্ত্র সফল হয়, তাহলে বলতে হয়, এটি হয়েছে সুকুমার সেন থেকে শুরু করে বর্তমান নির্বাচন কমিশনারের যথার্থ নির্বাচনী আচরণের জন্যই। তারা সবাই নির্বাহীদের দ্বারা নিযুক্ত হয়েছেন এবং তাদের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করেছেন। আপনি তাদের সমালোচনা করতে পারবেন না। এটা নির্বাচনের নিখুঁত আচরণ ছিল।’
প্রণব মুখার্জি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে একেকটি ইনস্টিটিউশন গড়ে ওঠে। আমি বিশ্বাস করি, একজন খারাপ কর্মী ইনস্টিটিউশনের এটা ভালো নয়, ওটা ভালো নয় বলে অভিযোগ করে। একজন ভালো কর্মী জানে, কীভাবে এর সরঞ্জামের পূর্ণ ব্যবহার করা যায়।’
সাবেক এই কংগ্রেস নেতার সঙ্গে একমত নন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ রাখার কথা থাকলেও বিজেপির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে নির্বাচন কমিশন, এমন অভিযোগ করেছেন রাহুল। গত রোববার লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটের পর এক টুইটে রাহুল বলেন, ‘ইলেক্টোরাল বন্ডস থেকে শুরু করে ও ইভিএম থেকে নির্বাচনের সময়সূচি কাজে লাগানো, নমো টিভি, মোদির সেনাবাহিনী এবং এখন কেদারনাথের নাটক; মোদি ও তার গ্যাংয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের কূটনীতি সব ভারতীয়র কাছে স্পষ্ট।’
কেবল রাহুল নন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেগু দেশম পার্টির সভাপতি চন্দ্রবাবু নাইডুও বিজেপির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ দেখানোয় নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।