ঋণখেলাপিদের জন্য মাত্র ২ শতাংশ এককালীন নগদ জমা (ডাউন পেমেন্ট) সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট বা সম্পূর্ণরূপে পরিশোধের বিশেষ সুবিধা দিয়ে জারি করা নীতিমালা বাস্তবায়ন না করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নীতিমালার ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা দেওয়ার এক দিনের মাথায় গতকাল বুধবার তফসিলি ব্যাংকগুলোকে তা জানিয়ে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক রূপ রতন পাই স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৬ মে জারি করা ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালার ওপর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। বিষয়টি আপনাদের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হলো।
গত ১৬ মে ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত বিশেষ এই নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়, ট্রেডিং খাত (গম, খাদ্যদ্রব্য, ভোজ্যতেল ও রিফাইনারি), জাহাজ শিল্প (শিপব্রেকিং ও শিপবিল্ডিং) এবং লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের ঋণখেলাপিরা এই সুবিধা পাবেন। তা ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের অকৃষি খাতের আমদানি-রপ্তানি সম্পৃক্ত শিল্প ঋণ এবং অন্যান্য খাতে ব্যাংকের বিশেষ নিরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত প্রকৃত ব্যবসায়ী, যাদের ঋণ নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত বা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে তারা এসব সুবিধা পাবেন। এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ এর সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১০ বছর অর্থাৎ প্রথম এক বছর ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। পরের ৯ বছর ধরে তা পরিশোধ করা যাবে। আবেদন পাওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ ভিত্তিক হিসাব করা স্থিতি অনুযায়ী কার্যক্রম নিতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়, পুনঃতফসিল সুবিধার ক্ষেত্রে অনারোপিত সুদের সম্পূর্ণ অংশ এবং ইন্টারেস্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে রক্ষিত সুদ মওকুফ করা যাবে। তবে মওকুফ করা সুদ ব্লকড হিসাবে স্থানান্তর করে রাখতে হবে। পুনঃতফসিলের শর্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধের পর ব্লকড হিসাবে রাখা সুদ চূড়ান্তভাবে মওকুফ হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে ঋণ স্থিতির (মওকুফের পর) ওপর ব্যাংকের তহবিল খরচের সঙ্গে ৩ শতাংশ সুদ যোগ করা যাবে। তবে মোট সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই সুদ কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই নীতিমালা জারির পর শুরু হয় কঠোর সমালোচনা। নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন এমন গ্রাহকদের পাশাপাশি সরব হন অর্থনীতিবিদরাও। গত মঙ্গলবার ওই নীতিমালার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। পরদিন ওই রিটের শুনানি নিয়ে ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।