বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ৫২ পণ্য জব্দ ও বাজার থেকে সরাতে ব্যর্থতায় নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তলব করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করায় তার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার রুল জারি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। আগামী ১৬ জুন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হককে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, বিএসটিআইর পুনঃমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা যাবে না। একই সঙ্গে ৪০৬টি পণ্যের মধ্যে অপ্রকাশিত ৯৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ১৬ জুন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের মান পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশের পর কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ বাজার থেকে ৫২ ভোগ্যপণ্য দ্রুত সরিয়ে তা ধ্বংস করার আদেশ দেয়। এর মধ্যে রূপচাঁদা ও তীর সরিষার তেল, এসিআই ও মোল্লার লবণ, প্রাণের গুঁড়া হলুদ, এসিআইয়ের গুঁড়া ধনিয়া এবং বাঘাবাড়ীর ঘি রয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্য বিএসটিআইয়ের মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখতে বলা হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি গতকাল শুনানির জন্য ওঠে।
নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের আইনজীবী মো. ফরিদুল ইসলাম ফরিদ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি গতকাল প্রতিবেদন দাখিল করেন। অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করলেও নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতির কোনো তথ্য না থাকায় কঠোর ভাষায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের প্রতি অসন্তোষ ও উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট।
আদালত বলে, ‘তারা দেশের কোথাও কোনো দোকান থেকে একটি প্যাকেটও সরায়নি। তাদের প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত একটি শব্দও নেই।’ প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীর উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, ‘ভদ্রতার একটা সীমা আছে। ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না। আপনারা পণ্য জব্দ বা সরানোর কোনো ব্যবস্থাই নেননি। অফিসের পাশে ১৭ জন (মোট জনবল) মিলে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ নিয়ে একটি পণ্যও জব্দ করতে পারলেন না!’
আদালত বলে, ‘আপনাদের অফিস রাখার দরকার কী? বড় বড় ব্যবসায়ীরা কী করে ফেলেন, সেজন্য ভয় পাচ্ছেন, এমন হলে চাকরি করার দরকার কী? চেয়ার ছেড়ে দিন। বাসায় গিয়ে রান্নাবান্না করুন, না হলে ব্যাংকে কেরানির চাকরি করুন। বসে বসে টাকার হিসাব রাখবেন।’ আদালত আরও বলে, ‘আপনারা কি হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন, বিভিন্ন অজুহাতে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন?’
আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিহাবউদ্দিন খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান। এদিকে গত ১২ মে হাইকোর্টের ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ সংশোধন ও পরিবর্তন চেয়ে এবং মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে গতকাল এসিআইর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ, প্রাণের পক্ষে এম কে রহমান, কাশেম ফুডের পক্ষে আইনজীবী তানজীব-উল-আলম ও বাঘাবাড়ীর পক্ষে আইনজীবী মমতাজউদ্দিন মেহেদী শুনানি করেন। আদালত ওই আদেশ সংশোধন কিংবা পরিবর্তনের আবেদন খারিজ করে দেয়।
এদিকে মানহীন ৫২ পণ্যের মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের পণ্য বাজারজাত করতে চায় তাহলে বিএসটিআই থেকে পুনরায় মান পরীক্ষা করার আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পরীক্ষার পর বিএসটিআই অনুমতি দিলে তা বাজারজাত করা যাবে। যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের নমুনা বিএসটিআইকে দেবে সেব পণ্যের মানের পরীক্ষা আগামী ১৩ জুনের মধ্যে শেষ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর ফলও জানাতে বলা হয়েছে।