শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরি বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরি বিষয়ে অধিক জোর দেওয়া হচ্ছে বল জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।

শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলায় এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় গত ১০ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আমরা এখন শিক্ষার মান বৃদ্ধির কাজ করছি।

দীপু মনি বলেন, শিক্ষা জীবন শেষে শিক্ষার্থীরা যেন উন্নত জীবন পায়, তাদের যেন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ হয়, সেই কারণে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরি ব্যাপারে অধিক জোর দিচ্ছি।

তিনি জানান, ২০১০ সালে দেশে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার ১ ভাগেরও কম ছিল। আমরা বলেছিলাম ২০২১ সালের মধ্যে তা ২০ ভাগে উন্নীত করবো। ইতিমধ্যে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার শতকরা ১৬ হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে ভর্তির এই হার ২০২১ সামের মধ্যে ২০ ভাগ এবং ২০৩০ সালে তা ৩০ পারসেন্টে গিয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সকল শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হবে। শুধুমাত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নই, সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মাদ্রাসাগুলোতেও কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হবে। যাতে করে সকল শিক্ষার্থীদের অন্ততপক্ষে একটি বা দুটি কারিগরি বিষয়ে জ্ঞান থাকে।

ধানের মূল্য নিয়ে দীপু মনি বলেন, এ বছর ধানের ব্যাপক ফলন হয়েছে তা দেশের জন্য ভালো। উৎপাদন বেশি হওয়ায় হয়তো বাজারে কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। তাই সরকার ধান কেনা শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষককে কৃষিকাজে নানা ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষকরা কাজ করছেন বলে দেশে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের আরও উন্নতি হচ্ছে।

এর আগে মন্ত্রী সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার বই বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম দেওয়ান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা প্রমুখ।