গরমে শিশুর অ্যাজমা বাড়তে পারে

এই গরমে অনেক শিশুর ঘাম হয়। ঘাম থেকে ঠা-া লাগে এমনকি অ্যাজমা বেড়ে যায়। অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়েছে কি না বুঝবেন শ্বাসত্যাগের সময় প্রতিনিয়ত বাঁশির মতো শব্দ হলে। বিশেষ করে রাতে কাশি হলে। শ্বাসকষ্ট  হলে এবং প্রতিনিয়ত বুক বন্ধ বন্ধ লাগা ভাব হলে।  যেসব বাচ্চার ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে অ্যালার্জির ইতিহাস আছে এবং যাদের অ্যালার্জিজনিত হাঁপানি বা চর্মরোগ আছে, তাদের হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ আবহাওয়া ও বায়ুদূষণ। বাচ্চাদের হাঁপানি রোগ নির্ণয়ে আরও কিছু বিষয় রয়েছে, তা হলো প্রায়ই বাচ্চাদের মধ্যে অনেক রকম বাঁশির মতো শব্দ  শোনা যায়, যা হাঁপানির উপসর্গ। চিকিৎসকরা যদিও একে অ্যাজমা হিসেবে চিহ্নিত করতে অনুপ্রাণিত করেন, তবে এর অনেকগুলো অ্যাজমার উপসর্গ নয়।

ওষুধের ব্যবহার

বর্তমানে হাঁপানির অনেক নতুন ওষুধ বের হয়েছে। যেমন ইনহেলড ব্রঙ্কোডাইলেটর, প্রদাহবিরোধী ওষুধ স্টেরয়েড। এ ছাড়া স্পেসার যন্ত্র কিংবা নেবুলাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে শৈশবকালীন হাঁপানির চিকিৎসা করা সম্ভব।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

রোগের আক্রমণ তীব্র হয়। বিশ্রামরত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হয়। কথা বলার সময় বাক্য সম্পূর্ণ না হওয়া। অস্থিরতা বোধ। শ্বাসকষ্টের কারণে খাবার  খেতে না পারলে বা বমি হলে। তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়া সত্ত্বেও বা বাঁশির মতো শব্দ খুব বেশি জোরে শোনা গেলে । শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে  গেলে। নিঃশ্বাসের সর্বোচ্চ প্রবাহ রোগীর সুস্থ থাকা অবস্থায় ৬০ ভাগেরও কম হলে। শুরুতে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তার ফল আশানুরূপ না হলে।

রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে হবে

রোগীর অবস্থা যদি বেশি খারাপ হয়।  দ্রুত কার্যকর ওষুধ নেবুলাইজার পরপর তিনবার ব্যবহারের পরও অবস্থা ভালো না হলে। বাড়িতে চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া না গেলে।

অ্যাজমা প্রতিরোধের নিয়ম

বিছানার বালিশ, চাদর, কম্বল ইত্যাদি সপ্তাহে একবার গরম পানিতে ধুয়ে সূর্যের আলোতে শুকাতে হবে। ঘরে কার্পেট ব্যবহার করা যাবে না। ধূমপানজনিত ধোঁয়া প্রতিরোধ করতে হবে। পোষা প্রাণী কুকুর ও বিড়াল বাড়িতে থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে। বাড়ি এবং এর চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ধুলা প্রতিরোধক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এয়ারকন্ডিশনড গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না।

করণীয়

নিয়মিত ওষুধ খাওয়া। নেবুলাইজার ও স্পেসার যন্ত্র সঠিক নিয়মে ব্যবহার। অল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের পার্থক্য জানা। বারবার ওষুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। হাঁপানির উপসর্গগুলো ভালোভাবে চিনে রাখা। রোগীর শারীরিক অবনতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। অ্যালার্জি উদ্রেক করে এ ধরনের পরিবেশ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা।

 

 

অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

অ্যালার্জি ও অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ

চেম্বার : দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার, স্কাইটাচ রাজকোষ, ৪৩ আর/৫ সি, পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা

০১৭২১৮৬৮৬০৬, ০১৯২১৮৪৯৬৯৯