ঈদের সময় মানুষ নাড়ির টানে ছুটবে স্বজনদের কাছে। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের পরিবহন মালিকরা পুরনো লক্কড়ঝক্কড় বাস গ্যারেজে কাজ করিয়ে রাস্তায় নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মালিকদের লক্ষ্য ঈদের আগেই সড়কে নামাবেন এসব বাস। শহরের ১২ থেকে ১৪টি যানবাহনের গ্যারেজে দুই শতাধিক পরিবহন-নির্মাণ ও মেরামত শ্রমিক রাত-দিন পরিশ্রম করে পুরনো পরিবহনের ইঞ্জিন, কাঠামো, গ্লাস, ওয়্যারিং এবং রঙের কাজ নিয়ে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন।
পরিবহন মালিকরা পুরনো যানবাহনের কাজ করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি আনা হয়েছে নতুন ইঞ্জিনের যানবাহন। ঈদের আগেই সড়কে নামাতে জেলার এসব গ্যারেজের পরিবহন-নির্মাণ শ্রমিকরাও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইনস-সংলগ্ন কয়েকটি গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবহন-নির্মাণ শ্রমিকরা। কথা বলারও যেন সময় নেই তাদের। কাজ করতে হয় কয়েক ভাগে। এগুলো হলো ইঞ্জিন, বডি তৈরি, গ্লাস ফিটিং, সিট ফিটিং, রংতুলি, বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং কাজ। একজন পরিবহন মালিককেই প্রতিটি কাজ আলাদা চুক্তিতে করাতে হয়।
এ ব্যাপারে রংমিস্ত্রি বাবুল হোসেন জানান, রমজান মাসে পরিবহন মালিকরা পুরনো ও নতুন বাসে রং করাচ্ছেন, সব গাড়িই ঈদের আগে নিতে চান। তিনি আরও জানান, একটি বাসে ২৫ হাজার টাকা নেন রং করাতে। মানিকগঞ্জ-গুলিস্তান রুটের শুভযাত্রা বাসের চালক জসিম জানান, ‘ঈদেই সব যাত্রী চান ভালো ও ত্রুটিহীন বাসে বাড়ি ফিরতে। তাই মালিকের অনুরোধে পুরনো গাড়ির কিছু কাজ করিয়ে রং করাচ্ছি।’
যানবাহনের কাঠামো তৈরির মিস্ত্রি বাবুল বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে নতুন চারটি আর পুরনো তিনটি বাসের কাজ পেয়েছি।’ দিন-রাত কাজ করে এ কাজ শেষ করবেন বলে জানান তিনি।
মানিকগঞ্জ বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মোবারক হোসেন বলেন, ঈদ এলেই পরিবহন মালিকদের পুরনো বাস মেরামত করিয়ে সড়কে নামানোর প্রবণতা দেখা যায়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঈদের আগে ও পরে বিআরটিএ’র একাধিক টিম নিয়ে এসব প্রতিরোধে কাজ করে যাব। গোলড়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন পরিবহন রোধ আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। তবে ঈদের সময় বাড়তি নজরদারি থাকবে।’ এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ক্ষেত্রে আমাদের কড়া নজর থাকবে। মহাসড়কে পুলিশের টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে।’