পাকিস্তান বলে শুধুই প্র্যাকটিস ম্যাচ নয়

স্ত্রীকে বলা হয় বেটার হাফ। ক্রিকেটারদের কপাল প্রায়ই মন্দ থাকে। দীর্ঘ সফরে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। স্ত্রী-পরিবারের খরচ ওখানে সামলাবে কে? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবার অবশ্য বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পরিবার নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। টানা ১১ হারের হতাশায় ভুগতে থাকা সাবেক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানিদের কারও হতাশার কারণ নিশ্চয়ই বিদেশ-বিভুঁইয়ে দীর্ঘদিন পরিবারকে কাছে না পাওয়া। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টেছে। এখনই নয়। তবে সামনে পাচ্ছে। প্রেরণা বটে। কিন্তু এই প্রেরণা কি কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে বাংলাদেশের সৌভাগ্যের ইতিহাস আজ বদলে দিতে পারবে পাকিস্তান?

পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে হারানোর মহা-সুখের স্মৃতি আছে বাংলাদেশের। দেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার স্মৃতি জাগরূক। সেদিন দুবাইয়ের এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়েছে। হালে পাকিস্তান দলটা যত শক্তির হোক না কেন বাংলাদেশ কম কীসে?

তাই সৌভাগ্যের ভেন্যু কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে বাংলাদেশ যদি আরও একটা পাকিস্তান-বধ কাব্য লিখে ফেলে তার চেয়ে পাওয়ার আর কী হতে পারে? তাও কি না ২০১৯ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই। বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে।

বাংলাদেশি-বাঙালিরা সবসময় একটু বেশি উদ্দীপ্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে। জয় ছাড়া কিছু ভাবতে পারে না। তা খেলায় না হয় রাজনীতি নাইবা এলো। মাশরাফীর দলের পারফরম্যান্স বিশেষ করে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে আসা আর পক্ষান্তরে টানা হারের ডজনপূর্তির সামনে দাঁড়ানো পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশকে তো ফেভারিট বলতেই পারেন।

পাকিস্তান আনপ্রেডিক্টেবল। বরাবর। হালে কেউ কেউ এত ধারাবাহিক বাংলাদেশকে দেখলেও আনপ্রেডিক্টেবল তকমা লাগাতে চায়। এটা বোধগম্য নয় অনেকের। রোমাঞ্চক একটি দল বাংলাদেশ। যাদের বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলই দারুণ ফর্মে। রিজার্ভ বেঞ্চও উঠে এসে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের হুমকি দিচ্ছে।

এদিকে অথচ ২০১৭ ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপাজয়ী সরফরাজের দল হারের মিছিলে। ঘেরাটোপে। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের পর এবার আফগানিস্তানের কাছেও হেরেছে। কিন্তু এই যে তাদের একটু করুণ দশা তাকে কি হালকাভাবে নিতে পারেন?

ইতিহাস বলে ‘না’।

বাংলাদেশের অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ বয়সে কম হলেও ইতিহাসের কিছু তো জানেন। আরও জানেন পাকিস্তানের হঠাৎ জেগে ওঠার মানসিকতার কথা। আজকের ওয়ার্ম আপ ম্যাচটা সপ্তাহখানেক পর শুরু তাদের বিশ্বকাপের জন্য মহিমান্বিত করেই দেখতে চাইছেন, ‘ম্যাচের আগে আমাদের হাতে আর মোট পাঁচটি দিন আছে। আর এখন যে প্র্যাকটিস ম্যাচ দুটো আছে তা আমাদের জন্য অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আসলে কন্ডিশনটা বুঝতে যদি আমাদের দুটো ম্যাচ (অন্যটি ভারতের সঙ্গে, ২৮ মে) চলে যায় আর এখানে তার সঙ্গে যদি মানিয়ে নিতে পারি তাহলে আমাদের জন্য সহজ হবে।’ এ কারণেই ‘প্র্যাকটিস ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমাদের যেসব জায়গায় দুর্বলতা আছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য।’

মিরাজ মানছেন এখানে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো কিছু করতে পারলে দীর্ঘ ৯ ম্যাচের বিশ্বকাপটার পথ মসৃণ হতে পারে। তার বিশ্বাস, ‘যদি এই প্রিপারেশন ম্যাচ আমাদের জন্য ভালো হয় (বিশ্বকাপের) ম্যাচে গিয়ে তাতে অনেক কিছু সহজ মনে হবে। কারণ, বিশ্বকাপে অনেক হাইভোল্টেজের ম্যাচ থাকবে এবং অনেক প্রেশার থাকবে। এখানে প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা যদি আমাদের শতভাগ দিতে পারি তাহলে ওখানে আমাদের কাজটা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।’

এটাকে তাই মূল ম্যাচের চেয়ে কোনো অংশে কম বিচার করছে না বাংলাদেশ দল। দলের প্রতিনিধি হয়ে এসে কাল কার্ডিফে যেন সেই ঘোষণাটাই দিয়ে গেলেন খুলনার অলরাউন্ডার, ‘ম্যাচ জিতলে অবশ্যই অনেক আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়। এটা যে প্র্যাকটিস ম্যাচ তা আমাদের মাথায় নেই। আমাদের চিন্তা হলো একটা একটা করে ম্যাচ আমাদের জিততে হবে।’