যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে খুলতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের উন্মুক্ত হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। আগামী ২৯ ও ৩০ মে দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক থেকে এই সুখবর আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারটি বন্ধের জন্য দায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি কর্মী পাঠানো না গেলে কর্মীদের খরচ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তারা বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারের অন্যতম। নির্মাণ, বনায়ন ও সেবা খাতসহ দেশটির বিভিন্ন খাতে জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই শ্রমবাজার ঠিক রাখতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে চুলচেরা আলোচনার আহ্বান জানান তারা।

তারা বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ধরে রাখতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি যৌথ কমিটির সভায় শ্রমিক স্বার্থরক্ষায় নানা প্রস্তাব তুলে ধরতে হবে।

 বেসরকারি সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট রামরুর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. তাসনীম সিদ্দীকি বলেন, এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ঠিক করার পরও সাড়ে তিন-চার লাখ টাকা খরচ করে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক গিয়েছেন দেশটিতে। ১০টা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কাজগুলো হয়েছে। সেগুলোর একটা তদন্ত করা উচিত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

তবে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে কর্মী পাঠানোর খরচ কমানোর কথা জানান জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী। তিনি মালয়েশিয়ার বাজার ধরে রাখতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর তদারকির পরামর্শ দেন। শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা আশা করছি ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক থেকে ভালো খবর পাব। বৈঠকে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

বায়রার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল আলম ফিরোজ বলেন, দুবাইয়ের বাজার খুলবে। সেখানেও শ্রমিক সিন্ডিকেটের চেষ্টা হচ্ছে, মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা। ওই লোকগুলোকে যখন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না তখনই সিন্ডিকেটের চিন্তা হয়।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, যৌথ কমিটির বৈঠকে খরচ কমানোসহ, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, সরকার কখনোই সিন্ডিকেট সমর্থন করবে না। সবার জন্যই সুযোগ রাখা হয়েছে। ৭০টা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা স্ক্রিনিং করে নেব।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এমনকি দেশটিতে অবৈধভাবে যাওয়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের বের করে দেয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৌনে দু’লাখ কর্মী গেলেও এবার পাঁচ মাসে গেছেন মাত্র ৯৭ জন। অন্যতম এই শ্রমবাজার আবার চালু করতে এরই মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির দু’দফা বৈঠক হয়েছে। আগামী ২৯ ও ৩০ মে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবে তৃতীয় দফা বৈঠক।