মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের জন্য রাজধানীবাসীকে একটু কষ্ট সহ্য করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলছে। এই কাজের জন্য ঢাকায় মানুষ যানজটে কষ্ট পাচ্ছেন। আমি বলব, আরও ভালোভাবে চলাচলের জন্য এই কষ্টটা একটু সহ্য করতে হবে। আশা করি এ কাজটা হয়ে গেলে আর কোনো কষ্ট থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় মেট্রোরেল চালুর পর বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। গতকাল শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দ্বিতীয় গোমতী সেতু ও দ্বিতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-পঞ্চগড় সরাসরি ট্রেন সার্ভিসসহ বেশকিছু উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একইসঙ্গে কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার, কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং কড্ডা-১, সাসেক সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে বিমাইল সেতুরও উদ্বোধন করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনেরও উদ্বোধন করেছেন।
মেট্রোরেল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে ১৬টি স্টেশন থাকবে। মেট্রোরেল প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। সেইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আর আওয়ামী লীগ সরকার আসার পরই আমরা বাংলাদেশের মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে পেরেছি। এজন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, তারা আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, আস্থা রেখেছেন এবং আমাদের ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। এটি মিরপুর, ফার্মগেট, শাহবাগ দোয়েল চত্বর, প্রেস ক্লাব হয়ে মতিঝিল পৌঁছবে। এই মেট্রোরেলের রুটের মোটামুটি প্রতিটি জায়গায় পুরোদমে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। এজন্য এসব স্থানের সড়ক সরু হয়ে গেছে। ফলে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়েই কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বাঁশি বাজিয়ে, সবুজ পতাকা উড়িয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। রেলের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যত দিন যাচ্ছে রেল আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মানুষ এখন রেলে বেশি চড়তে চায়। চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের আরও বেশি যাত্রীবাহী কোচ দরকার। কাজেই আরও বেশি কোচ আমাদের কিনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত সাড়ে ১০ বছরে রেলের উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পঞ্চগড় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।