ধান সংগ্রহ নিয়ে ফখরুল

দলীয় চালকল মালিকদের মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে সরকার

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকার ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে দলীয় ব্যবসায়ী চালকল মালিকদের মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে। তারা কৃষকদের ন্যায্য দাবির কথা কানেও নিচ্ছে না। গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে যখন তারা (কৃষক) ধান ক্ষেতে পুড়িয়ে দিচ্ছেন,  রাস্তায় ফেলে বিক্ষোভ করছেন তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কৃষকদের বিক্ষোভকে স্যাবোটাজ বলছেন। কৃষকদের বাস্তব সেন্টিমেন্ট নিয়ে সরকারদলীয় শীর্ষ নেতার এহেন মন্তব্যে নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। এ দেশের কৃষকদের বর্তমানে যে দুরবস্থা তা সরকারের ভুল নীতিরই প্রতিফলন। দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। দেশের প্রায় দেড় কোটি কৃষক পরিবারে আজ ত্রাহি অবস্থা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের ধান তার সরকার কিনে নিয়েছিল। তখন গুদামজাত করার মতো বেশি স্থান না থাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায়ও ধান গুদামজাত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিশ্বব্যাংক থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য টাকা এনে সরকারদলীয় লোকজন ভাগ করে খেয়ে ফেলছেন।’

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে দলীয় ব্যবসায়ী চালকল মালিকদের মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে। বাজার থেকে কম মূল্যে ধান কিনে চালকল মালিকরা চাল তৈরি করে সরকারের কাছে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে মুনাফা করছে ১০ টাকা। আর কৃষক তার জমিতে উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করে কেজিপ্রতি লোকসান গুনছে ১০-১২ টাকা।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। এই খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য সরকার বিশেষ ছাড় দিয়েছে। যদিও এই ছাড় মহামান্য হাইকোর্ট আটকে দিয়েছে। সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের দুধকলা দিয়ে পুষছে। অথচ এই খেলাপিঋণের মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ দিলে সরকার আরও প্রায় ৩৬ লাখ মেট্রিকটন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা উপকৃত হবেন। ’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।