ফেভারিটের সঙ্গে শক্তি পরীক্ষা আজ মাশরাফীর

বাংলাদেশের হতাশা। আবহাওয়ার ওপর মন খারাপ করে কী লাভ? কিন্তু বিরাট কোহলির ভারতের বেলায় কী বলবেন? বিশ্বকাপের ফেভারিট। বিশ্বকাপের আগের দুই ওয়ার্মআপ ম্যাচের একটি বাংলাদেশ হারাল বৃষ্টিতে। আর ভারত হারল নিজেদেরই কারণে। নিউজিল্যান্ড তো পাত্তাই দিল না বিশ্বের দুই নম্বর দলটাকে।

তাহলে? আজ যখন নিজেদের পয়মন্ত ভেন্যু কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে বাংলাদেশ ও ভারত মুখোমুখি হচ্ছে ৩০ তারিখ শুরু বিশ্বকাপের আগের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে তখন কার জন্য কী অপেক্ষায়? ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে বাংলাদেশ টগবগে। সবাই ফর্মে। আর ভারত আহত। মান হারানোর লজ্জা। বিশ্বের যেকোনো দলকে মাশরাফীর দল হারাতে পারে। সেটা জানে ভারত। কিউইদের সঙ্গে হারের লজ্জা মুছে এবার তো তাদের টাইগারদের ওপর ঝাঁপিয়েই পড়ার কথা!

বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজটা জিতেছে ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্সে। বিশ্বের সেরা দলের মতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনবার উড়িয়ে দিয়েছে। শেষটায় নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ট্রফিটাও জিতেছে। ব্যাটিংয়ে আগুন ছড়াচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা শতভাগ পেশাদার পারফরম্যান্সে। রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়রা ফর্ম নিয়ে পুরো তৈরি। প্রয়োজনে প্রতিদান দিতে।

সব ঠিক আছে। কিন্তু খেলাটা তো হওয়া দরকার। বৃষ্টিতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ হয়নি। আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে গোটা দিনজুড়ে মেঘের ওড়াউড়ি থাকার শঙ্কা। খেলা শুরুর আধঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিও নামতে পারে। তাহলে খেলা শুরু বা টসের দেরি হওয়ার প্রশ্ন থেকে যায়। তাতে অবশ্য খেলা শুরু হলে যে দল টস জিতবে তাদের জন্য বাড়তি কিছু মেলার সুবিধা আছে? এমন আবহাওয়া পেসারদের সহায়ক। শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানদের সতর্কতার পথ মানতে হলে সব মিলে হাইস্কোরিং ম্যাচের সম্ভাবনা কমে। কিন্তু তারপরও কথা আছে। শঙ্কারও। এখানে হওয়া শেষ ম্যাচটিতে ৯৭ ওভারে রান হয়েছিল ৬৪৬।

নিউজিল্যান্ডের কাছে ৭৭ বল বাকি থাকতে হেরেছে ভারত। ব্যাটিং হয়েছে যা-তা। ১৭৯ রানে অল আউট। আট নম্বরে নেমে রবীন্দ্র জাদেজার ৫৪ ছাড়া বলার কিছু নেই। বাঘা বাগা ব্যাটসম্যানের দলের এই অবস্থা! কিন্তু দলটা তো ভারত। কোহলির বিশ্বজয়ী টিম। তাদের ভয় পায় না কে?

কিন্তু ভারতকে ওয়ানডে সিরিজ হারানোর অভিজ্ঞতা তো আছে মাশরাফীর দলের। আর আছে কদিন বিশ্রাম নিয়ে ফ্রেশ থাকার সুখ। যদিও কালকের প্র্যাকটিস সেশনে সিরিয়াসনেস ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে জুনিয়ররা আইরিশ মাটিতে যা করে এলো তাতে ভারতকে নিশ্চয়ই এই ম্যাচে নামার আগে বিশ্লেষণগুলো নানাদিক থেকে করে নিতে হচ্ছে।

তর্কসাপেক্ষে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। কিউইদের বিপক্ষে চার ওভারে দুই মেডেন ছিল। রান দিয়েছিলেন দুই। ভিন্ন অ্যাকশনের ভয়ংকর বোলার।

বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডব নিয়ে কথা নেই। বোলিং নিয়ে সামান্য সমস্যা। অত শক্তি নেই। তবু কিছু কৌশল বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিচ্ছে। সঙ্গে সঠিক সময়ে অধিনায়ক মাশরাফীর সঠিক সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে নিজেদের দিকে নিয়ে আসে, নজির অনেক। সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপের ঠিক আগেই ওয়ানডে অলরাউন্ডারের এক নম্বর জায়গায় ফিরে এসেছেন। সাকিব তো সাকিব। ভারতের সব ব্যাটসম্যান চেনা। তাকে নিয়ে বাড়তি ভাবনা থাকবে প্রতিপক্ষের তা তো স্বাভাবিক।

প্রত্যেক ম্যাচের আলাদা গুরুত্ব থাকে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন ম্যাচ হলে তো কথাই নেই। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ছোটকাল থেকে স্বপ্ন ভারতের সঙ্গে খেলা। এই প্রথম সুযোগটা এলো। ‘ভালো করি মন্দ করি তা আল্লাহর হাতে।’ তবে এর সঙ্গে তীব্র বিশ্বাস নিয়ে তার উচ্চারণ, ‘এই টুর্নামেন্টের শেষের দিকে ওদের সঙ্গে আমাদের ম্যাচ আছে। আমরা যদি এই ম্যাচে ভালো করতে পারি তাহলে ওই ম্যাচে তা কাজে দেবে।’

সব কথার শেষ কথা, ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচে বাংলাদেশের তিন বিভাগেরই পারফরম্যান্স বিশ্বকাপের মূল টোনের প্রাথমিকটা গড়ে দিতে পারে। যা এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলটাকেই আরও ভালো, আরও ছন্দময়, আরও বিধ্বংসী, আত্মবিশ্বাসী এবং কল্পনাতীত সফল করে তুলতেও পারে। ক্রিকেট তো এমনই। গৌরবময় মহান অনিশ্চয়তার খেলা।