বাজেট ২০১৯-২০

এলএনজিতে ভর্তুকি তিন গুণ হচ্ছে

শিল্পে গ্যাস সংযোগ দিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছর এর আমদানি আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী গ্যাসের দাম দেওয়ার সক্ষমতা নেই দেশের ব্যবসায়ীদের। সম্প্রতি সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে তাতে প্রবল আপত্তি জানায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে গ্যাসের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এলএনজিতে ভর্তুকি প্রায় তিন গুণ বাড়াতে যাচ্ছে সরকার।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরে এলএনজিতে ভর্তুকি প্রায় তিন গুণ বাড়ানো হচ্ছে। আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এলএনজিতে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি রাখা হয়।

গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েক বছর বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পেও নতুন সংযোগ বন্ধ রাখে সরকার। এলএনজি আমদানি করে শিল্পে নতুন করে সংযোগ দেওয়া শুরুর পর গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় কোম্পানিগুলো। এ নিয়ে শুনানিও হয়। গ্যাসের দর বাড়ানোর এ উদ্যোগ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন। আদালত গ্যাস কোম্পানিগুলোর অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। তারপর থেকেই গ্যাসের দর বাড়ানোর বিষয়টি ঝুলে আছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই চড়া দামে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে বাড়তি ভর্তুকি রাখতে হচ্ছে বাজেটে।

ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলএনজিতে ভর্তুকি কত রাখল, সেটা ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিট কত থাকবে, সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাড়তি ভর্তুকি রাখার মধ্য দিয়ে বুঝা যায় যে, সরকার গ্যাসের দর সহনীয় পর্যায়ে রাখার চিন্তা করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির জন্য ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। এটি চলতি অর্থবছরের ভর্তুকি বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি বাবদ ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়। নতুন অর্থবছরে ভর্তুকির প্রায় অর্ধেকই ব্যয় হবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও কৃষি খাতে। পাটকলগুলোর লোকসান কমানো ও মূলধন জোগান দিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কৃষি খাতে ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে বলে জানা গেছে। গত দুই অর্থবছর ধরেই খাতটিতে ৯ হাজার কোটি টাকা করেই ভর্তুকি রাখা হচ্ছে। কৃষি খাতের ভর্তুকি মূলত সার ও সেচে ব্যবহার হয়। বিদ্যুৎ খাতে নতুন অর্থবছরে ভর্তুকি সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা রাখা হতে পারে। চলতি অর্থবছর এ খাতে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি রাখা হয়েছে।