দুইশ বছরেরও আগেকার কথা। আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্রে) দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছে আইনগতভাবে। কিন্তু তখনো কিছু লোভী ব্যবসায়ী আফ্রিকা থেকে সহজ-সরল মানুষ ধরে এনে বিক্রি করছিল বাজারে। আলাবামার টিমথি মিয়াহের ভাইয়েরা ছিল তেমনই লোভী। ১৮০৭ সালে দাস ব্যবসা অবৈধ ঘোষণা করা হলেও ১৮৬০ সালে তারা একটি জাহাজ পাঠিয়েছিল পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে (এখনকার বেনিন)। ক্লটিলডা নামের সেই জাহাজে করে উপকূলের ডাহোমিয়ান যোদ্ধাদের সহায়তায় ১১০ জনকে ধরে আনে আলাবামায়। সবাইকে বিক্রিও করে দেয় তারা।
ওই জাহাজে থাকা কয়েকজনের জীবন কাহিনী নিয়ে পরবর্তী সময়ে লেখা হয় বেশ কয়েকটি গল্প ও উপন্যাস। যে কারণে সেটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। কিন্তু কালের গ্রাসে এক সময় হারিয়ে যায় জাহাজটি। সেই ঐতিহাসিক জাহাজটি সম্প্রতি খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। যদিও গেল বছরের প্রথম দিকে জাহাজটির খুঁজে পাওয়ার কথা শোনা যায়। তবে তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত সপ্তাহে আলবামা হিস্টোরিক্যাল কমিশন ঘোষণা করে সেই জাহাজটিই সর্বশেষ ক্রীতদাসবাহী জাহাজ ক্লটিলডা।
কমিশনের নির্বাহী পরিচালক লিসা দিমিত্রপলসের বরাতে সিএনএন বলছে, বাহনটি মানব ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়কে বহন করে বেড়াচ্ছে। এই আবিষ্কার দাসপ্রথার ভয়াবহতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
লিসা জানান, জাহাজটিকে আলাবামা উপকূলের মোবাইল নদীর মোহনায় প্রথম দেখা যায় গত বছর। বেন রেইনস নামে এক সংবাদকর্মী উপকূলীয় এলাকায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ তিনি উপকূলের কয়েক মাইল উত্তরের এক জায়গায় দেখতে পান কাদার ওপরে লোহার দণ্ড। তারপর কিছু কাঠও উঁচু হয়ে থাকতে দেখেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ফ্লোরিডার প্রতœতাত্ত্বিকদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তখন সবাই একমত হয়েছিলেন যে, জাহাজটি ১৮৫০-এর দশকে গড়া। তবে তারাও পুরো নিশ্চিত হতে পারেনি যে জাহাজটি ক্লটিলডা। অবশেষে আলবামা হিস্টোরিক্যাল কমিশন নিশ্চিত করেছে ওই জাহাজটিই কালের এক কালো অধ্যায়ের সাক্ষী।