গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খান ও তার স্ত্রী ডা. আখতার জাহান উম্মে নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ বাদী হয়ে গত রবিবার রাতে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মামলা দুটি করেন। তাদের বিরুদ্ধে দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাদের খান গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি লিটনকে নিজ বাড়িতে ব্রাশফায়ারে হত্যা মামলার প্রধান আসামি।
দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কাদের খান দম্পতির বিরুদ্ধে দুদক ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুসন্ধান শুরু করে। এরপর দুদকের নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে কাদের খান দম্পতি ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর কমিশনে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেন। দীর্ঘদিন পর কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার মামলা দায়ের করা হয়।
দুদক সূত্র আরো জানায়, সাবেক এমপি আবদুল কাদের খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় বলা হয়েছে, তিনি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তথ্য দিয়ে ২৪ লাখ ৪২ হাজার ৭৭০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। আর তার স্ত্রী ডা. আখতার জাহান উম্মে নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় বলা হয়েছে, তিনি সম্পদ বিবরণীতে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তথ্য দিয়ে ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি লিটনকে তার নিজের বাড়িতে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহ পরের বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে আবদুল কাদের খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি ছিলেন।