দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের জনগণের সন্দেহ হয়, আসলে সরকার বলতেও কিছু আছে কি না। এখন মূল কথা দাঁড়িয়েছে, জবাবদিহিতা তো কারও নেই। জবাবদিহি করতে হয় না বলে যে যার মতো লুট করছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে দুর্ভাগ্য আপনারা মহান পেশায় আপনাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে একটার পর একটা পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে, টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ করা হয়েছে, অসংখ্য সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। অনলাইনগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের সমস্ত স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করেছে। বাংলাদেশ এখন আর কোনো স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। এটি এখন সম্পূর্ণভাবে পরনির্ভরশীল একটা স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের কবলে পড়ে একটি একনায়কতন্ত্রের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরকার নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে। সম্পূর্ণ অর্থনীতির ওপরে তারা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি বলেন, এরা সবসময় বড়াই করে বলে যে, উন্নয়ন হচ্ছে, অনেক উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু খবরের কাগজ খুললে দেখা যায়, অনেক মানুষ তাদের সন্তানের ঈদের কাপড় কিনে দিতে পারছে না। আজও এক মা আত্মহত্যা করেছেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সবখানে একটা অস্বস্তিকর, ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ইফতারে সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বর্তমান মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলম প্রমুখ নেতাও ইফতারে অংশ নেন। ইফতারে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন আলমগীর মহিউদ্দিন, নুরুল হুদা, এম এ আজিজ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুস শহিদ, আবদুল হাই শিকদার, আবু সালেহ, হাসান হাফিজ, বাকের হোসাইন, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মোদাব্বের হোসেন, বাছির জামাল, শাহিন হাসনাত প্রমুখ।