ধানের দাম নিয়ে সংলাপ

কৃষকের ক্ষতি ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

বর্তমান বাজারদরে উৎপাদিত ধানের ৬৫ শতাংশ বিক্রি করলে কৃষকের ১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হবে। এ ক্ষতি কাটাতে আগামী বাজেটে কৃষি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হবে। এছাড়া সরকারিভাবে শস্য গুদাম ও মজুদাগারে মজুদ ২১ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৬০ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষক পর্যায়ে কমিউনিটি ভিত্তিক শস্যভা-ার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘ধানসহ কৃষিপণ্যের মূল্য : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলীর সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, কৃষকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি স্থায়ী মূল্য কমিশন গঠন করতে হবে। মজুদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। নীতি গ্রহণ ও মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমের মধ্যে কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।

ভর্তুকির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ। বলেন, ভর্তুকি দিলে কৃষক সরকারকে সেটা প্রত্যক্ষভাবে ফিরিয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী ৬ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে ভর্তুকি চালু করেছিলেন বলেই পরের দুই অর্থ বছরের মধ্যে দানাদার খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিলেন। প্রয়োজনে ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে।

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, যান্ত্রিকীকরণ বিশেষ করে শস্য বপন, রোপণ, কর্তন, মাড়াইয়ে জোর দিতে হবে।

এছাড়া পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে শস্য আমদানি করা হয়। কিন্তু খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত হলে কী করা হবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। চলতি মাসে ধান কিনেছে এমন মিলারদের কাছ থেকে চাল কেনার ঘোষণা দিলে কৃষক উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষক ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। সরকারের সদিচ্ছাও প্রকাশ পাচ্ছে না। কৃষকদের পক্ষে কথা বলার জন্য ওই পর্যায় থেকে রাজনীতিতে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে। নিরাপদ খাদ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আরও গবেষণার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মহসিন আলী বলেন, ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষিদের সুবিধা দিতে ভাড়াভিত্তিক যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখতে হবে। উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য কৃষক পর্যায়ে কৃষি উপকরণ, বিশেষ করে সেচ, সার ও কীটনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্প্রসারণ কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কৃষিনীতি বাস্তবায়নে সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।

একশন এইডের পরিচালক আসগর আলী সাবরি বলেন, কৃষকের এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বড়ই অভাব।

গতকালের সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা ছাড়াও কৃষক প্রতিনিধি ও বেসরকারি প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।