সংলাপে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ

কৃষি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দাবি

কৃষকের লোকসান কমিয়ে আনতে আসন্ন বাজেটে কৃষি খাতে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অ্যাকশন এইডের সহায়তায় আয়োজিত ‘ধানসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে এ দাবি ওঠে।

এ সময় বক্তারা বর্তমান বাজার দরে প্রতিমণ ধানে গড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকা লোকসান হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষকের ক্ষতি পোষাতে সরকারকে ৫০ লাখ টন ধান ক্রয়ের অনুরোধ জানান।

সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে সরকার খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে থাকে। আমাদের সরকারও ভর্তুকি দেয়। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে এর সুফল কৃষকরা সেভাবে পান না। এর একটা বড় কারণ তারা অসংগঠিত।’ সাবেক কৃষি

 

 

 

 সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ‘আমাদের কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়েছে। বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণেই আমরা আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে দাবি করে থাকি। কৃষিক্ষেত্রে যাই ঘটুক, আমাদের প্রেক্ষাপটে ধান চাষ অব্যাহত থাকবেই। বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে সরকারের ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্তগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা কৃষককে সংকটে ফেলে দিয়েছে। এ মুহূর্তে কৃষককে তিন-চার মাসের জন্য সুদবিহীন ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

পশ্চিমবঙ্গে মূল্য কমিশনের উদাহরণ টেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হক বিদিশা বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মূল্য কমিশনের বেঁধে দেওয়া সুনির্দিষ্ট মূল্যে সরকারিভাবে অনেক ধান করা হয়। আমরাও এ কমিশন গঠন করে সুফল পেতে পারি।’

এর আগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সংগঠনের সদস্য সাহানোয়ার সাঈদ শাহীন দেশের বর্তমান কৃষি খাতের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘দেশে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কৃষককে বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারা আমাদের একটি বড় ব্যর্থতা। এক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।’