ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরদিন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্ক্সিস্ট) ক্যাডাররা পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৬০টির বেশি পার্টি অফিসের দখল নিয়েছে। ১৯৬৪ সালের পর এবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে একটিও আসন পায়নি সিপিআই (এম)। কিন্তু নির্বাচনে জয় না পেয়েও তৃণমূলের পার্টি অফিস দখলকে পশ্চিমবঙ্গে ভিন্নধর্মী রাজনীতির সূচনা
হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পশ্চিমবঙ্গের সহিংস রাজনীতিতে নির্বাচনপরবর্তী বাস্তবতা এমন যে, জিতে যাওয়া পার্টির ক্যাডাররা বিরোধী পার্টির অফিস দখল করে নেয়। বিরোধীদের পার্টি অফিসে নিজেদের পতাকা উত্তোলন ও ছবি তোলার মতো ঘটনা খুবই সাধারণ ঘটনা। ২০১১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর তৃণমূলের ক্যাডাররা বামপন্থিদের প্রায় অধিকাংশ পার্টি অফিস দখল করে নিয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হেরে যাওয়া পার্টি জয়ীদের পার্টি অফিস দখল করছে। আর এই ঘটনার পেছনে আছে জাতীয়ভাবে জিতে যাওয়া দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
পশ্চিমবঙ্গের বাংলা পত্রিকা দ্য ওয়াল ও ভারতের বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই (এম)’র উত্থানের পেছনে আছে বিজেপির সমর্থন। এবারের নির্বাচনে বামপন্থিদের একটা বিশাল অংশ বিজেপিকে ভোট দেয় তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে রাজনৈতিকভাবে শিক্ষার দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে।
তবে সিপিআই (এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘বিজেপি এবং তৃণমূল যৌথভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে আর মিডিয়া তা লুফে নিচ্ছে বাংলার নতুন সমীকরণ রচনা চেষ্টায়। উভয়পক্ষই বলছে সিপিআই (এম) এবং বামেরা বিজেপিকে প্রণোদিত করেছে।’
মেদিনিপুরের তরুণ সিপিআই (এম) নেতা সুজিত জানা বলেন, ‘মমতাকে হারানো ছিল আমাদের প্রথম লক্ষ্য। আমরা জানি একমাত্র বিজেপিই পারে তৃণমূলকে প্রতিহত করতে। এর ফলে সিপিআই (এম) সমর্থকরা সবাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।’ তবে বিজেপিই যে তাদের তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করতে সহায়তা করেছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে বিজেপির জয় তৃণমূলকে দুর্বল করেছে এবং রাজ্যের লড়াইয়ের ময়দানে অক্সিজেনের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর মতে, তৃণমূল ভালো করেই জানে যে, বিজেপি তাদের পার্টি অফিসগুলোর দখল নেবে, যেখানে তারা জিতেছে। আর এক্ষেত্রে পার্টি অফিসগুলো মূলত যাদের (সিপিআই-এম), তাদের হাতেই কৌশলে হস্তান্তর করেছে তৃণমূল।