স্বাগতিকদের বিশ্বজয় তিনবার

প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার ৯৪ বছর পর ১৯৭১ সালে ওয়ানডে ক্রিকেট চালু হয়। আর প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে। বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারাটা যে কোনো দেশের জন্য সব সময়ই সম্মানের।বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বাগতিক দেশগুলো নিয়ে এবারের আয়োজন।

১৯৭৫ : ইংল্যান্ড

ওয়ানডে ক্রিকেট চালু হয় ১৯৭১ সালে। আর ঠিক তার চার বছর পর ১৯৭৫ সালে অনুষ্ঠিত হয় ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ। ইতিহাসের প্রথম সেই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ডে। ৭ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ৫টি শহরের ৬টি মাঠে ওই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। তবে এখন যেমন ৫০ ওভারে খেলা হয় আগে কিন্তু তেমনটি ছিল না। সে সময় প্রতিপক্ষ দল দুটি ৬০ ওভারের ইনিংস খেলত। অংশগ্রহণকারী দল ছিল মোট ৮টি। এর মধ্যে টেস্টখেলুড়ে দেশ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়াও ছিল আইসিসির সহযোগী দেশ শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব আফ্রিকা। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিজয়ী হয়ে সেমিফাইনালে খেলে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে মাত্র ৯৩ রানে অল আউট করে বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। যদিও এই রান করতেই ৬ উইকেট হারাতে হয়েছিল অজিদের। সেমি ফাইনালের অন্য ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বিশ^কাপটি নিজেদের করে নেয় ক্যারিবিয়ানরা। ফাইনাল ম্যাচে পুরো ৬০ ওভার ব্যাট করে ২৯১ রান সংগ্রহ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই রান তাড়া করতে গিয়ে ২৭৪ রানে সব উইকেট পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার।

১৯৭৯ : ইংল্যান্ড

প্রথম বিশ্বকাপের মতো দ্বিতীয় বিশ^কাপও অনুষ্ঠিত হয় ইংল্যান্ডের মাটিতে এবং প্রতি ইনিংসে ৬০ ওভার করে খেলা অব্যাহত ছিল। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আগের বিশ^কাপের রানার-আপ অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দুরন্ত সূচনা করে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের অন্য দুটি ম্যাচেও কানাডা এবং পাকিস্তানকে পরাজিত করে তারা। গ্রুপ পর্বের পরই অনুষ্ঠিত হয় সেমিফাইনাল। দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড। বাদ যায় শুধু অস্ট্রেলিয়া এবং প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলে পাকিস্তান। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড। টসে জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং করার আহ্বান জানায় কিউইরা। ৬০ ওভার খেলে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১২ রান করেছিল ইংলিশরা। এই রান তাড়া করতে নেমে ৯ রান দূরে থাকতেই সব উইকেট হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নিউজিল্যান্ড। লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় ইংল্যান্ডকে ৯২ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে ক্যারিবিয়ানরা। ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৮৭ রানের টার্গেট দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৫৭ বলে ১৩৮ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডস। এছাড়াও ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে ৬৬ বলে ৮৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন কলিস কিং। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ইংল্যান্ড। তাদের প্রথম উইকেটের পতন হয় দলীয় ১২৯ রানে। কিন্তু ওপেনার মাইক ব্রেয়ারলি এবং জিওফ বয়কট এত ধীরে রান তুলেছিলেন যে, পরবর্তী ব্যাটসম্যানরা রান তাড়া করে ১৯৪ রানেই অল আউট হয়ে যায়। প্রথম ও দ্বিতীয় আসরে খেলোয়াড়দের পোশাকের রং ছিল সাদা।

১৯৮৩ : ইংল্যান্ড

টানা তৃতীয় বারের মতো ১৯৮৩ সালে বিশ^কাপ আয়োজন করে ইংল্যান্ড। ৯ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত মোট ১৫টি মাঠে এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই হয়েছে ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালে। তবে আগের টুর্নামেন্টের ফরম্যাট থেকে এই বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়। এই আসরে গ্রুপ পর্বের খেলাগুলো হয় ডাবল-লিগের। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বে প্রত্যেকটি দল অন্য দলের সঙ্গে দুবার করে খেলেছিল। তাই টুর্নামেন্টের মোট ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে গিয়েছিল। আগের দুই বিশ্বকাপে যেখানে ১৫টি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তৃতীয় বিশ^কাপে অনুষ্ঠিত হয় ২৭টি ম্যাচ। আর সে কারণেই মাঠের সংখ্যাও ছিল বেশি।

এই আসরকে বলা হয় বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব থেকে অঘটনের আসর। কারণ এই আসরেই সাবেক দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ট্রফি হাতে তুলে নেয় ভারত। তবে ফাইনালেই যে এই দুই দলের দেখা হয়েছে এমন নয়। গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল কপিল দেবের দল। কিন্তু গ্রুপ পর্ব বলে সেটিকে তেমন পাত্তা দেওয়া হয়নি। অবশেষে ফাইলালেও ঘটে একই ঘটনা। আর এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ী দল হিসেবে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নাম লেখে ভারত। ফাইনালের সেই ম্যাচে কপিল দেব অপরাজিত ছিলেন ১৭৫ রানে।

১৯৮৭: ভারত ও পাকিস্তান

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই প্রথম যেটা ইংল্যান্ডের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৮৭ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে আয়োজন করে এই বিশ্বকাপ। মোট ২১টি ভিন্ন ভিন্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপের ২৭টি ম্যাচ। ভারতের ১৪টি মাঠে হয়েছিল ১৭টি খেলা আর পাকিস্তানের ৭টি মাঠে হয় ১০টি খেলা।

এই বিশ্বকাপের মধ্য দিয়েই ওভার সংখ্যা ৬০ থেকে কমিয়ে ৫০-এ নিয়ে আসা হয়। এই আসরে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিক দুই দলের কেউই ফাইনালে যেতে পারেনি। আর দুই বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো আগেই বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। ইংল্যান্ড অবশ্য গিয়েছিল ফাইনাল পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ার কাছে মাত্র ৭ রানে হেরে যায়।

১৯৯২ : অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড

বিশ্বকাপের ৫ম আসর যৌথভাবে আয়োজন করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দেশ অস্ট্রেলিয়া। এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার শিরোপা জয় করেছে। এছাড়া পর পর তিনবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করা একমাত্র দলও অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয় ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত।

এই বিশ্বকাপেরও ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায় ইংল্যান্ড। তবে ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হয় তারা। ইমরান খানের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে পাকিস্তান। দুই দেশে মোট ১৮টি ভেন্যুতে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ১১টি মাঠে মোট ২৫টি ম্যাচ আর নিউজিল্যান্ডের ৭টি মাঠে ১৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকাপে মোট আম্পায়ারের সংখ্যা ছিল ১১জন।

১৯৯৬ : ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ষষ্ঠ আসর আয়োজন করে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে স্বাগতিক দেশের মর্যাদা পায়। খেলা চলে ১৯৯৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত। ভারতের মোট ১৭টি ভেন্যুতে ১৭টি ম্যাচ, পাকিস্তানের ৬টি স্টেডিয়ামে ১৬টি ম্যাচ এবং শ্রীলঙ্কার ৩টি স্টেডিয়ামে ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময়ে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেখানে নির্ধারিত খেলায় অংশ নেয়নি। এর কারণে উভয় খেলায় শ্রীলঙ্কাকে বিজয়ী ঘোষণা করে আইসিসি। স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রীলঙ্কা কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। যে খেলা দুটি হয়নি সেগুলো ছিল গ্রুপ পর্বের খেলা। ১৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া আর ২৬ ফেব্রুয়ারি একই স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ^কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে শ্রীলঙ্কা। ফাইনাল ম্যাচ হয় পাঞ্জাবের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।

১৯৯৯ : ইংল্যান্ড

১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপের ৭ম আসর। আর চতুর্থ বারের মতো এই আসরের আয়োজন করে ইংল্যান্ড। মোট ১২টি দল এই বিশ্বকাপে অংশ নেয়। খেলা হয়েছিল মোট ২১টি মাঠে। একমাত্র মূল স্বাগতিক দেশ হিসেবে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আয়োজন করলেও প্রতিযোগিতার কয়েকটি খেলা হয়েছিল আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে। তাই এই দেশগুলো সহ-আয়োজকের মর্যাদা লাভ করে। চারটি দেশের মোট চারটি মাঠে এবং ইংল্যান্ডের ১৭টি মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই আসরেই বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এই বিশ্বকাপের ফাইনালেও ঘটে অঘটন। পাকিস্তানকে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট করে দিয়ে ট্রফি জিতে নেয় স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়া। জয় পেতে মাত্র ২০ ওভার খেলতে হয়েছিল অজিদের।

২০০৩ : দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের অষ্টম আসর যৌথভাবে আয়োজন করে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। তিন দেশ মিলে আয়োজন করলেও এই আসরের মূল আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিছু ম্যাচ জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়াতে অনুষ্ঠিত হয়। এই আসরে মোট ১৪টি ক্রিকেট দল অংশগ্রহণ করে। মোট ৪৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন স্টেডিয়ামে। জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত হয় ৬টি ম্যাচ আর কেনিয়াতে মাত্র ২টি ম্যাচ। টেস্ট খেলুড়ে দেশের বাইরে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল কেনিয়া।

৭ম আসরের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া অষ্টম আসরেও বিজয়ী হয়। চূড়ান্ত খেলায় তারা ভারতকে হারায়। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের সৌভাগ্য অর্জন করে।

২০০৭ : ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ আয়োজন করে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের নবম আসর। মার্চের ১৩ থেকে এপ্রিলের ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলে এই টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় ১১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের জ্যামাইকার গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়ামে।

সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারতকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। এই বিশ্বকাপে মোট ৫১টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। চারটি গ্রুপে বিভক্ত মোট ১৬টি দল এই বিশ্বকাপে অংশ নেয়।

ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৫৩ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে অস্ট্রেলিয়া। ২৪ এপ্রিল কিংস্টন ওভালে ফাইনালে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে ২৮১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শ্রীলঙ্কা খেলতে নামলে আলোক স্বল্পতার কারণে তিন ওভার আগে খেলা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে দুই দলের অধিনায়কের সম্মতিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় অস্ট্রেলিয়াকে। কারণ রানরেট যা ছিল তিন ওভারে সেটা করা শ্রীলঙ্কার পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল।

২০১১ : বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা

বিশ্বকাপের দশম আসরে প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশ হওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ একা ছিল না, যৌথভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ভারতের নয়টি, বাংলাদেশের দুটি আর শ্রীলঙ্কার তিনটি স্টেডিয়ামে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৪টি জাতীয় ক্রিকেট দল এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। বিশ্বকাপ খেলা চলে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। খেলার সংখ্যা ছিল মোট ৪৯টি।

টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার দুই দিন আগে জমাকলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী খেলাটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে। সেটা অনুষ্ঠিত হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি। সেই ম্যাচে ভারত ৮৭ রানে জয়ী হয়।

এই আসরের ফাইনাল ম্যাচটি হয়েছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে ভারত। যা ছিল ভারতের দ্বিতীয় শিরোপা।

২০১৫ : অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড

১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর দেশ দু’টি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ^কাপ যৌথভাবে আয়োজন করে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। বিশ^কাপ ক্রিকেটের একাদশ আসরটি চলে ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার একটি খেলা বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়।

ম্যাচগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, হেবার্ট, মেলবোর্ন, পার্থ ও সিডনির মোট ১৪টি মাঠে ২৬টি ম্যাচ হয়। আর নিউজিল্যান্ডের ৭টি শহর অকল্যান্ড, ক্রাইস্টচার্চ, ডুনেডিন, হ্যামিল্টন, নেপিয়ার, ওয়েলিংটন ও নেলসনে ২৩টি ম্যাচ হয়। মোট ১৪টি দল এই বিশ্বকাপে অংশ নেয়।

স্বাগতিক দুই দলই ফাইনালে অংশ নিয়েছিল। দুই দেশেরই ছিল শিরোপা জয়ের তুমুল প্রতিযোগিতা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

২০১৯ : ইংল্যান্ড

আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ১২তম আসর। এই আসরের স্বাগতিক দেশ ইংল্যান্ড। এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশটি। কিন্তু আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডকেই সব থেকে দুর্ভাগা দেশ বলতে হবে। নিজেদের মাটিতে আয়োজন করা হলেও গত চার আসরের কোনোটাতেই ট্রফি নিজেদের করে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। এই আসরে তারা ট্রফি নিজেদের করে রাখতে পারে কি না সেটা সময়ই বলে দেবে। খেলা যতদিন না শেষ হচ্ছে ততদিন অপেক্ষা করতেই হবে শেষ হাসি কে হাসবে সেটা জানার জন্য।