প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস রোধে ৪ ব্যবস্থা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে চারটি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা থেকে এগুলো কার্যকর করা হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) জানিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষার দিন সাতক্ষীরায় অনাকাক্সিক্ষতভাবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। এ কারণে পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা আয়োজনে আমরা আরও কঠোর অবস্থান অবলম্বন করছি। নতুন করে চারটি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে।’ গত ২৪ মে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা হয়। আগামী ৩১ মে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, যে জেলায় পরীক্ষা হবে সেই জেলা কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণ করানো হবে না। এই কাজটি করবেন অন্য জেলায় কর্মরতরা। সবগুলো জেলায় নয়, অন্তত ২ থেকে ৩টি জেলায় অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপর থেকে আর কোনো পরীক্ষার্থীকে মুখ ও কান ঢেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নিয়োগ পরীক্ষার দিন ২৬ জেলার সকল কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে র‌্যাব, এনএসআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হবে মুন্সীগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, নরসিংদী, জামালপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, রাজবাড়ী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, নাটোর, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ে। এই ২৬টি জেলায় প্রায় ৬ লাখ প্রার্থী রয়েছে।

সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা আয়োজনে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রশ্নপত্র হেফাজতে যেখানে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সব চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমি মনে করি বর্তমানে প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা শূন্য শতাংশ। কারও পক্ষে অনিয়ম-দুর্নীতি করা সম্ভব হবে না। জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকতে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’