কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনূর আক্তার তানিয়াকে দল বেঁধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত এবং আসামি ধরতে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়ার পর পুলিশের তৎপরতা ঝিমিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের। মামলার তদন্তেও নতুন করে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি তানিয়ার পরিবারের। তবে পুলিশ বলছে, আসামি ধরতে তাদের তৎপরতার কোনো কমতি নেই। অল্পদিনের মধ্যেই এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিরা ধরা পড়বে দেশ রূপান্তরকে এমন আশার কথা শুনিয়েছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ।
মামলার তদন্ত এবং আসামি ধরতে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তানিয়ার বড় ভাই কফিল উদ্দিন সুমন গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বোনকে হত্যার আজ ২৫ দিন পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মামলা দায়েরের পর আর কোনো আসামি ধরেনি পুলিশ। আমার মনে হয় পুলিশ ম্যানেজ হয়ে গেছে। যার জন্য আসামি ধরতে পুলিশের আর কোনো মাথাব্যথা নেই। গত শুক্রবার বাজিতপুর থানায় গিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সারোয়ার জাহানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। কিন্তু পুলিশ কোনো নতুন তথ্য দিতে পারেনি আমাকে।’
মামলার বাদী তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেনÑ ‘বুঝেছি, আমার মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যাকারীর বিচার আর আমি পাব না। কারণ, আমি মামলা করার পর ২৫ দিনেও আর কোনো আসামি ধরেনি পুলিশ। আমার মনে হয় আসামিরা পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নইলে সবকিছু প্রমাণ হওয়ার পরও কেন বোরহানসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হচ্ছে না। এখন মনে হচ্ছে, দায় এড়াতেই ও লোক দেখানোর জন্য পুলিশ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণার কৌশল অবলম্বন করেছে।’
তানিয়ার পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামি ধরতে আমাদের তৎপরতার কোনো কমতি নেই। আমরা বোরহানসহ অন্য আসামিদের ধরে দিতে অর্ধলাখ টাকার ঘোষণাও দিয়েছি। আসামিদের সন্ধান পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।’
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘তানিয়া ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পলাতক আসামি ধরে দেওয়ার জন্য আমরা ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছি। তারা অল্পদিনের মধ্যেই ধরা পড়বে বলে আশা করছি।’
গত ৬ মে রাতে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের সিনিয়র নার্স তানিয়াকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে স্বর্ণলতা পরিবহনের চলন্ত বাসে দল বেঁধে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ বাসের চালক নূরুজ্জামান ও তার সহকারী লালনসহ পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে আট দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় নূরুজ্জামান ও লালন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে দুজনই ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে চালক নূরুজ্জামানের খালাতো ভাই বোরহানের সরাসরি জড়িত থাকার কথা জানায়।