আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে হুট করে শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেওয়ায় বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীর মধ্যে অনৈক্য-বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এই বিভ্রান্তি নিরসনে শিগগির সভা ডেকে খোলামেলা আলোচনার তাগিদও দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীতে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে দলের বিভক্তি ও বিভাজন নিয়ে নেতাকর্মীদের চিন্তা না করার আহ্বান জানান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তারা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মওদুদ বলেন, ‘নির্বাচনের পর দলীয়ভাবে আমরা ফল প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। সংসদকে অনির্বাচিত, অবৈধ সংসদ হিসেবে অভিহিত করেছিলাম। সে কারণে আমরা এই সরকারের অধীনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন (প্রায় ২১০ জন), তাদের বহিষ্কার করেছিলাম। কিন্তু হুট করে শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ায় আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনৈক্য ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনের সময় আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা জেল খেটেছে, আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। এমনকি মৃত্যুবরণ করেছে। হঠাৎ করে এই সংসদে যোগ দেওয়ায় সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিএনপির বর্তমান অবস্থান নিয়ে শত শত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের দিতে হবে। এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে আমাদের ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে হবে।’ বর্তমান সময়কে বিএনপির জন্য বড় ধরনের সংকটকাল হিসেবে উল্লেখ করে সর্বক্ষেত্রে ঐক্য বজায় রাখা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ।
সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকেই হতাশার কথা বলেন, আমি কখনো হতাশার কথা বলি না, বলতে চাই না, বিশ্বাসও করি না। আমি মনে করি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ, তার যে দর্শন, তার যে চিন্তা-চেতনা তা কখনো ব্যর্থ হবে না। খালেদা জিয়ার যে অবদান, তার যে ত্যাগ স্বীকার তা কখনো ব্যর্থ হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে, জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসে, দেশনেত্রীকে ভালোবাসে। অবশ্যই তারা রুখে দাঁড়াবে, বিএনপি রুখে দাঁড়াবে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করবে।’ সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে অকার্যকর ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাই আজকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমাদের এই শপথ নিতে হবে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা বিভক্তির চিন্তা করব না, আমরা বিভাজনের চিন্তা করব না। আমরা জিয়াউর রহমানের রাজনীতি অনুসরণ করে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করব এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।