যে প্রক্রিয়ায় হবে নুসরাত হত্যার বিচার

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলা ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। এ আদালতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নুসরাত হত্যার বিচার হবে।

আইনজ্ঞরা এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে দেশ রূপান্তরকে জানান, আগামী ১০ জুন আদালতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করবে এবং তখন থেকেই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্র ও  আসামিপক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি হবে। যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করবেন বিচারক। আইন অনুযায়ী অপরাধীরা শাস্তি পাবে।

এ মামলার বিচার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, এ মামলার বিচার কাজ ৬ মাস বা ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হলে আদালতকে ৩০ দিনের মধ্যে এর কারণ লিপিবদ্ধ করে সুপ্রিম কোর্ট ও একটি অনুলিপি সরকারকেও দিতে হবে। তা ছাড়া এ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এই প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিবেচিত না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুতরাং এই মামলায় কোনো পক্ষেরই কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।

এই আইনজীবী আরও বলেন, নুসরাত হত্যার মামলার যে অগ্রগতি, তাতে তিন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। সুন্দর চার্জশিট হয়েছে। ভিকটিম নিজে সবকিছু বলে গেছেন। নুসরাতের মৃত্যুর আগে মামলাও করেছেন তার মা। সুতরাং আমরা আশা করব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই মামলার বিচারকাজ শেষ হবে। তবে আমরা চাইব, নুসরাত হত্যা মামলার পাশাপাশি এ ধরনের অন্য মামলাগুলোর বিচারকাজও শেষ হোক।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী ও মানবাধিকার আইনজীবী এলিনা খান বলেন, আইনজ্ঞরা বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে ও কোনো কোনো জেলায় একাধিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, অথবা এখতিয়ার সম্পন্ন বিচারক দ্বারা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলমান আছে। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৪-৫টি করে ট্রাইব্যুনাল আছে। সুতরাং এ ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কোনো বাধা নেই।

এই আইনজীবী শাস্তি প্রসঙ্গে বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদ-ও হতে পারে। এ ছাড়া রয়েছে অর্থদন্ডের বিধান। আমরা আশা করব, অপরাধীরা শাস্তি পাবে। কারণ এই মামলার বিচারকাজে কোনো বাধা নেই।