তামাককে না বলুন

গতকাল শুক্রবার (৩১ মে) সারা বিশ্বে পালিত হলো ওয়ার্ল্ড নো টোব্যাকো ডে। তামাকের মধ্যে ৭০টি ক্যানসার তৈরির উপাদানসহ প্রায় সাত হাজারটি বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। অথচ অবলীলায় তামাকের ব্যবহার চলছেই। এর ভয়াবহতা তৎক্ষণাৎ প্রকাশ পেলে সিগারেট, জর্দা, গুল, সাদা পাতা থেকে মানুষ দূরে থাকত। চিকিৎসা গবেষকরা তুলে ধরেছেন- তামাক ব্যবহারকারীর গড় আয়ু থেকে প্রায় ১২ বছর সময় কমিয়ে ফেলে। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ এর ধীরে ধ্বংসের শিকার হয়। চুল, চোখ, মস্তিষ্ক, নাক, কান, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, লিভার, প্রজনন সিস্টেম, চর্ম, যকৃৎ, গর্ভের শিশু, রক্তসহ প্রায় সবখানে ধূমপানের জটিলতা পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন চিকিৎসা গবেষকরা। ধূমপানের চেয়েও ক্ষতিকর জর্দা, সাদা পাতা বা গুল, মুখ গহ্বরের জন্য ভয়ংকর। তামাকের ফলে যা করণীয়

প্রি-ক্যানসার ও ক্যানসার : তামাক ব্যবহারে, বিশেষ করে জর্দা থেকে মুখে বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হয়। ক্ষতগুলো বিভিন্ন ধরনের ও ভিন্ন উপসর্গের হতে পারে, অনেক সময় অনুভূতিহীন থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত থেকে ক্যানসারের মতো ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে। মুখের ক্যানসারকে এখন শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ক্যানসারের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে তুলনা করলে এর অবস্থান তৃতীয়। মুখের স্বাদ পরিবর্তন, জ্বালাপোড়া, বিভিন্ন জটিল ক্ষত লাইকেন প্লানাস, লিউকোপ্লাকিয়াসহ নানা জটিলতা তামাক ব্যবহারকারীদের দেখা যায়।

মুখ গহ্বরের অস্বাভাবিকতা : মুখের মধ্যকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করে এসিডিক করে তোলে। ফলে ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়িরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনেক সময় দাঁতের প্রতিরক্ষা আবরণ নষ্ট করে। তখন শিরশির অনুভূতি হয়।

গবেষণা স্পষ্ট করে ধূমপায়ীদের মুখে ক্যারিজ ও মাড়িরোগ তৈরির ব্যাকটেরিয়া অধিক পাওয়া যায়। তামাক ব্যবহারে মুখের রক্তবাহী নালির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। ফলে সংক্রমণ সহজে ভালো হয় না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, চিকিৎসার সফলতাও ধীর গতিতে অথবা কমে যায়। যেমন- মাড়িরোগের চিকিৎসা, ইমপ্লান্ট প্রতিস্থাপনে, দাঁত ফেলে দিলে বা কোনো ক্ষতের চিকিৎসায় সফলতার হার কমে যায়।

২. সৌন্দর্যহানি : পান, জর্দা ব্যবহারে ধূমপায়ীদের দাঁত ও মাড়ির রং পরিবর্তন হয়। এতে সৌন্দর্যের ব্যাঘাত ঘটে তা নয়, ব্যক্তিত্ব প্রকাশেও হীনমন্যতায় পড়তে হয়। সামাজিকভাবেও বিষয়টি বিব্রতকর। সৌন্দর্য বা দৃঢ় ব্যক্তিত্ব প্রকাশে সুন্দর হাসির ভূমিকা প্রধান আর সুন্দর হাসির জন্য প্রয়োজন ঝকঝকে পরিপাটি দাঁত।

 

দুর্গন্ধ : তামাক ব্যবহারকারীর মুখে দুর্গন্ধ খুব স্বাভাবিক। আর এই পরিস্থিতি ভুক্তভোগীর সামাজিকভাবে হেয় করে। বিশেষ দিবসে চাই গণসচেতনতা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্র্তৃক দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়ের সূত্র ধরে বলা যায়, ‘প্রতিদিন হোক তাকামমুক্ত দিবস’।

প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধে আইনের প্রয়োগ কঠোর হতে হবে, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও হতে হবে সচেতন। কারণ নিরপরাধ অধূমপায়ী কেউ পরোক্ষভাবে ধূমপানের ভয়াবহতার স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

কলাবাগান, রাজ ডেন্টাল সেন্টার, ধানমণ্ডি  ১৩, রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড

সদস্য সচিব, বিএফডিএস

ফোন : ০১৯১১ ৩৮৭২৯১