বাংলাদেশের স্বপ্নের বিশ্বকাপ মিশন এবার শুরু। ওভালে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে খেলা। এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রোটিয়ারা খেলেছে। সেদিন উইকেট দেখে মনে হয়েছে এখানে আগে ব্যাট করলেই সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ, ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে প্রথম ৪০ ওভার ব্যাটিংয়ের জন্য চমৎকার উইকেট ছিল।
পরের দিকে বল অবশ্য গ্রিপ হচ্ছিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা কিন্তু বেশ ভালোভাবেই কামব্যাক করতে পেরেছিল। আমার মনে হচ্ছিল ৩৩০-৩৪০ রান করবে ইংল্যান্ড। সেখানে ৩১১ রানের মধ্যে তাদের থামিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
পরে ওই রানটাই দক্ষিণ আফ্রিকার তাড়া করতে কষ্ট হয়ে গেল। ইংল্যান্ডের বোলিংও ভালো ছিল। ওই উইকেটে স্পিনাররা ভালো করেছে। আদিল রশিদ ভালো করেছে। মঈন আলি ১০ ওভার বল করেছে।
তো আমার কাছে মনে হয় টস জিতলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আজ আগে ব্যাট করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। স্কোরবোর্ডে আমরা ভালো একটু রান তুলতে পারলে ভালো। কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের ম্যাচটা আমরা জিতেছিলাম আগে ব্যাট করে। রান ডিফেন্ড করেছিলাম।
প্র্যাকটিস ম্যাচে আমাদের বোলারদের সবাই প্রথম ৩০ ওভার ভালো বল করেছিল। সবাই। পেসাররা। ওটাই যদি দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ধরে রাখতে পারি, প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে ৩-৪টা উইকেট নিতে পারি তাহলে তাদেরকে খুব প্রেশারে রাখতে পারব।
ব্যাটিংয়ে আমাদের শীর্ষ তিনের একজনকে বড় রান করতেই হবে। তামিম ইকবাল ফিট থাকলে, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসানÑ এদের কেউ বড় স্কোর করলে দলের জন্য বিরাট উপকার হবে। ২৮০-২৯০ এমন একটা স্কোর করতে পারলেও চলবে মনে হয়। কারণ, আমাদের বোলিং অ্যাটাক। আর দক্ষিণ আফ্রিকা হেরে মানসিকভাবে একটু ডাউনেও আছে। ভালো কিছু চাইলে ভালো রান দরকার।
স্টার্ট বা শুরুটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবার লক্ষ্য সেমিফাইনালে খেলা। তা পূরণ করতে চাইলে প্রথম ম্যাচে জিততে পারলেই অনেক এগিয়ে যাওয়া যাবে। বাংলাদেশ দলের সবাই চাইবে এটাই। ব্যাটসম্যানরা অভিজ্ঞ। তারা দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারলে সম্ভব।
সাকিবের পারফরম্যান্সটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। তার ব্যাটিং ও বোলিং আমাদের লাগবে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডে ট্রাইনেশনে যেভাবে খেলেছে এখানেও যদি তেমন পারফর্ম করতে পারে তাহলে দলের সবার মধ্যে আলাদা রকমের ভালো করার একটা প্রেরণা তৈরি হবে। সবার মধ্যে তাগিদটা চলে আসবে। সাকিবকে প্রত্যেকটা দলই সমীহ করে। তার দুই বিভাগেই ভালো করা অন্যদের কাজ সহজ করে দেবে। সবার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আমরা জানি দক্ষিণ আফ্রিকা স্পিনে একটু দুর্বল আছে। সাকিবের যে কোয়ালিটি তা দিয়ে যদি ১০টা ওভার ভালো বল করতে পারে তাহলে প্রোটিয়াদের বড় চাপে ফেলা যাবে। আর মেহেদী হাসান মিরাজের জন্যও সহজ হবে। মোসাদ্দেক হোসেন খেললে তার জন্য বল করাটা সহজ হয়ে যাবে।
তামিম শেষ পর্যন্ত খেলতে পারবে কি? ২০১৭ সালে এই ওভালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কিন্তু সে সেঞ্চুরি করেছিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ওই আসরে ইংল্যান্ডের মাটিতে অসাধারণ পারফর্ম করেছিল। তার এক্সপেরিয়েন্স অনেক হয়েছে। গেল দুই বছরে তার গড় ৭০-এর ওপরে। শেষ দুই বছরে আসলে আমাদের তামিম, সাকিব, মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ এই চার ব্যাটসম্যান নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাদের ক্যারিয়ারের সেরা ব্যাটিং ও গড় এখন। সেরা সময়। অনেক ভালো খেলছে ওরা প্রত্যেকে।
ওদের এই ব্যাটিংয়ের বিষয়গুলোকে এক জায়গায় মিলাতে হবে। কাজ হবে তাতে। যাদের কথা বললাম তারা যদি ভালো খেলতে পারে তাহলে? যদি আমরা টসও হারি, তারপরও ব্যাটসম্যানরা তাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে তাহলে নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে আজ আমরা হারাতে পারব।