মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার নিজের লেখা ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ বইতে ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ শব্দ ব্যবহার করায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বইয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘জয়
পাকিস্তান’ বলেননি। গতকাল শনিবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কে খন্দকার অসত্য তথ্য দেওয়ার দায় নিয়ে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে তিনি বইয়ের ৩২ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লিখিত বিশেষ অংশ সংবলিত পুরো অনুচ্ছেদটুকু প্রত্যাহার করে নেন।
এ কে খন্দকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘যেভাবেই আমার বইতে আসুক না কেন, এই অসত্য তথ্যের দায়ভার আমার এবং বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে কখনই ‘জয় পাকিস্তান’ শব্দ দুটি বলেননি। আমি তাই আমার বইয়ের ৩২ নম্বর পৃষ্ঠার উল্লিখিত বিশেষ অংশ সংবলিত পুরো অনুচ্ছেদটুকু প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং একই সঙ্গে আমি জাতির কাছে ও বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার কাছে ক্ষমা চাইছি।’ ওই সময় প্রথমা প্রকাশন ৩২ পৃষ্ঠার বিতর্কিত অংশটুকু বাদ দিয়ে বইটি পুনর্মুদ্রণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন একে খন্দকার।
২০০৪ সালে বই প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এ কে খন্দকার। বইটি নিষিদ্ধের দাবি ওঠে সংসদে। আদালতে অভিযোগ করা হয়। ওই সময় সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছাড়েন এ কে খন্দকার। ফোরামও তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছিল।
এ কে খন্দকার বলেন, ‘আমার বয়স ৯০ বছর। আমার সমগ্র জীবনে করা কোনো ভুলের মধ্যে এটিকেই আমি একটি বড় ভুল বলে মনে করি। গোধূলিবেলায় দাঁড়িয়ে পড়া সূর্যের মতো আমি আজ বিবেকের তাড়নায় দগ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মার কাছে ও জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
বইটি প্রকাশের পর তথ্য সংশোধন করতে চাইলেও প্রথমা প্রকাশনের কারণে তা করতে পারেননি বলে দাবি করেন এ কে খন্দকারের স্ত্রী ফরিদা খন্দকার। তিনি স্বামীর অসুস্থতার প্রসঙ্গে তুলে বলেন, “বইটা সংশোধন না করাতে উনি মানসিক রোগী হয়ে গেছেন। সিএমএইচে চিকিৎসা নিয়েছেন একেবারে ‘উন্মাদ পাগল’ হিসেবে। এখনো তার চিকিৎসা চলছে।”
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান’ উল্লেখ করে তার বর্ণাঢ্য জীবনের কথা তুলে ধরেন এ কে খন্দকার। তিনি বলেন, ‘জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে পড়া একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি কৃতজ্ঞ।’