বিএনপি এবার আর বলছে না ঈদের পর আন্দোলন

বিগত দিনগুলোতে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি বলে এসেছে ঈদের পর সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কিন্তু কোনো ঈদের পরই তারা রাজপথে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। এই নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপহাস করে বলা হয়েছে, কোন ঈদের পরে বিএনপির আন্দোলন? সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যমেও এই নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। এবার বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে না ঈদের পরে আন্দোলন। তা হলে ঈদের পরে বিএনপির পরিকল্পনা কী? এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গতকাল শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় কিছু নিয়ে ট্রল করে, উপহাস করে। এটা তাদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। বিএনপি এ নিয়ে চিন্তিত নয়।

প্রতিবার ঈদের পর আন্দোলনের কথা বলা হলেও এবার ঈদের পরে পরিকল্পনা কী? জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক দল পুনর্গঠন কাজ চলছে। পুনর্গঠন কাজ শেষ হলে সময় বুঝে তিনি আন্দোলন সংগ্রামের নির্দেশনা দেবেন। সে অনুযায়ী আন্দোলন শুরু হবে। তবে আগে দলের পুনর্গঠন কাজ শেষ করা হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে না সরকার, কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না, শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির নিশ্চয়তা নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই। এভাবে নানা ইস্যু বিদ্যমান। বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এসব ইস্যুতে আন্দোলন করবে। তবে তার আগে দলের পুনর্গঠন কাজ শেষ করা হবে। পুনর্গঠন শেষে দলের নির্বাহী কমিটির সভা, স্থায়ী কমিটির বৈঠক, ১৯ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যথাসময়ে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে তারা বলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেন। এরপর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ নেতারা বলে এসেছেন ঈদের পর আন্দোলন। এই নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির নেতারা বিভিন্ন সময় বলেছেন, কোন ঈদের পর আন্দোলন? এটি সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করেছেন।

বিএনপির ওই নেতারা বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হলে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এর ফলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের আর সুযোগ রইল না। মানুষের স্বার্থরক্ষায় জীবনের এই প্রান্তে এসে কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার প্রত্যয় গ্রহণ করেছেন তারা। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেছিলেন, বিকল্প থাকলে এখনো তা সংসদে এসে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের প্রতি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, অযথা গ-গোলের চেষ্টা করবেন না। এরপর থেকে বিএনপি একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। কিন্তু আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি।

এর কারণ জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি বিগত দিনগুলোতে যে আন্দোলন করে আসছে তা দেশ স্বাধীনের পর কেউ করতে পারেনি। এরপরও সরকার তাদের দাবি মানেনি। বরং যখনই বিএনপি কোনো আন্দোলনে গেছে, সরকার তখনই দলের নেতাকর্মীদের খুন, গুম, হামলা, মামলা ও নির্যাতন করেছে। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন স্তব্ধ করে দিয়েছে। এভাবে শত শত বিএনপি নেতাকর্মী খুন, গুম হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। আন্দোলনের কোনো পরিবেশ নেই। শুধু বিএনপি কেন সরকার বিরোধী কাউকে কোনো আন্দোলন করতে দিচ্ছে না। চরম পন্থায় তা দমনের চেষ্টা করছে। শুধু বিএনপি কেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছেন তখনো সরকার অমানবিকভাবে চরম পন্থায় সে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছে। এরপরও বিএনপি আন্দোলনে নামবে।