টাকা পেলেই জঙ্গিদের জন্য কোর্টে দাঁড়ানো যাবে না : র‌্যাব ডিজি

টাকা পেলেই জঙ্গিদের আইনি সহায়তা না দিতে আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করায় এবারের ঈদও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হবে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। ঈদে নিরাপত্তা নিয়ে গতকাল রবিবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবপ্রধান। বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আইনজীবীদের উদ্দেশে র‌্যাবপ্রধান বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে যারা মানুষকে কোর্টে লিগ্যাল হেলপ দেন, জঙ্গিদের ব্যাপারে আপনাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিতে হবে। টাকা পেলেই জঙ্গিদের জন্য কোর্টে দাঁড়ানো যাবে না। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যদি কেউ জামিন অমান্য করে, তা হলে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় সিআরপিসির ৫১৪ ধারা অনুযায়ী। কিন্তু এই ব্যবস্থা যদি কোর্ট করতে যায়, তা হলে সব আইনজীবী অশান্তি তৈরি করবেন।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আইনজীবীদের আমি অনুরোধ করব আর ১০টা ক্রাইমÑ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা, রাহাজানিকে যেভাবে দেখেন জঙ্গিদের সেভাবে দেখলে ভুল হবে, আত্মঘাতী হবে। এর শিকার যে আইনজীবী দাঁড়াচ্ছেন তিনি নিজে হতে পারেন, তার পরিবারও হতে পারে। আমি আহ্বান জানাব, যেসব জঙ্গিকে আপনারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে জামিন করিয়ে দিয়েছেন তাদের আদালতে হাজির করেন। আমরা দেখেছি, অনেক সময় ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করেও কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসা হচ্ছে।’

জামিন নিয়ে অধিকাংশ জঙ্গিই পালিয়েছে উল্লেখ করে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘পহেলা জুলাই ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে হামলার পর র‌্যাব এখন পর্যন্ত ৫১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩০০ জন জামিনে আছে, যাদের অধিকাংশ পলাতক। যারা পলাতক রয়েছে তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘র‌্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ এবং সমন্বয়ে রয়েছে। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং যদি কোনো ধরনের অপতৎপরতার গোয়েন্দা সংবাদ আমাদের হাতে আসে, তবে সঙ্গে সঙ্গে নিবৃত্ত করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা হবে। দেশবাসীকে বলব, কেউ আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না, ইনশাআল্লাহ ঈদ শান্তিপূর্ণভাবে হবে।’

ঈদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তারাবি-সাহরি সময়সহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। সারা দেশে যেখানে যেখানে র‌্যাব ফোর্সেস রয়েছে সেসব গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যাতে করে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষিত হয় সেজন্য আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছি। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে এ পর্যন্ত ১৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে লঞ্চ টার্মিনাল, বড় বড় বাস টার্মিনাল, ট্রেন টার্মিনাল, ফেরিঘাটসমূহ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ২৪ ঘণ্টা সড়ক ও নৌপথ মনিটরিং করছি, রেল রুট মনিটরিং করছি। রেলে কিছু কিছু বিলম্বের খবর আসছে। এর জন্য অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। আগামীতে এসব সমস্যা সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।’

ঈদ জামাতে নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে র‌্যাবপ্রধান বলেন, ‘ঢাকায় প্রায় সাড়ে ৫০০ জায়গাতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার বাইরেও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শোলাকিয়া, দিনাজপুর এগুলো নিরাপত্তার আওতায় রয়েছে।’