গফুর এখন যাবে কোথায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

(গতকালের পর)

৩. কৃষকের গুরুত্ব কেবল সংখ্যা দিয়ে নিরূপণ করা যাবে না, যদিও সংখ্যায় তারা অনেক, তারাই সর্বাধিক; এই সত্য মানতে হবে যে কৃষক না থাকলে কৃষিও নেই, এবং কৃষি না থাকলে বাংলাদেশও নেই। সোনার বাংলা আর সোনার বাংলা থাকবে না, দোজখ হয়ে যাবে। সরকারের প্রধান কর্তব্য হবে কৃষককে ভর্তুকি দেওয়া। বহুক্ষেত্রেই ভর্তুকি দেওয়া হয়। পোশাক খাত হরদম ভর্তুকি চাচ্ছে ও পাচ্ছে। এই লেখাটি লিখতে লিখতেই দেখছি পোশাক কারখানার মালিকরা ষাট হাজার কোটি টাকার নতুন ভর্তুকি চেয়েছে। (বণিক বার্তা, ২৮ মে) হয়তো পাবেও। কারণ যারা চাইছে দেওয়ার মালিকও তারাই। রাখে হরি মারে কে। ওসব চাওয়া পাওয়া চলবে। চলুক। তবে সবচেয়ে জরুরি যে খাত, কৃষি খাত, সেখানে অবশ্যই ভর্তুকি দিতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে। ভর্তুকি দিয়ে ডিজেল, সেচ, সার, বীজ, ধান মাড়াই, এক কথায় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু যাতে দরিদ্র কৃষকের কাছে স্বল্পমূল্যে সহজলভ্য হয় সেটা দেখা চাই। উৎপাদন খরচ কমানো চাই। সরকারের দ্বিতীয় কর্তব্য বেশি করে ও সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা। সরকার ধান কেনা ক্রমাগত কমিয়ে আনছে, করা দরকার কিন্তু ঠিক উল্টোটা। এ বছর সরকার কিনেছে উৎপাদনের শতকরা মাত্র এক ভাগ। (ডেইলি স্টার, ২৮ মে) এই ক্রয়ের মধ্যে শুধু ধান নয় চালও আছে। ধানই কেনা দরকার, চাল নয়। সরকার চাল কেনে মিল মালিকদের কাছ থেকে, তাতে কৃষকের কোনো সুবিধা হয় না, সবটা সুবিধাই মিল মালিকদের। জানা গেছে যে মিল মালিকরা যে শুধু নিজেদের মিলের জন্য ধান কেনে তা নয়, সস্তায় ধান কিনে সরকারের কাছে সরকার-নির্ধারিত দরে বিক্রিও করে। ধান কেনাতে লাভ, ধান বেচাতে লাভ, আবার ধান থেকে চাল ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদন করেও লাভ। ত্রিফলা। ওই যে গান আছে ‘ডিম পাড়ে হাঁসে, খায় বাগডাশে’ এ সত্যের এ বড় সঠিক প্রমাণ।

 

কৃষিমন্ত্রী দেখলাম বলেছেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। এটা হচ্ছে সার কথা, লাখ কথার এক কথা। রাজনৈতিক বাধা মানে দলীয় বাধা, আর দল মানেই সরকারি দল। ধান কিনতে হবে মধ্যবর্তী ফড়িয়া-দালালদের মারফত, যাদের ভেতর সবাই হচ্ছে সরকারি দলের হয় নেতা নয় কর্মী। কোনো কিছু না করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে গিয়ে এরা কৃষকের প্রাপ্য দু’হাতে হাতিয়ে নিচ্ছে। কৃষকের হায় হায়টা বাড়ছে। ওদিকে খাদ্যমন্ত্রী দেখলাম বলেছেন অন্য কথা। সেটি চমৎকার। তিনি বলেছেন, আমরা অর্থাৎ সরকারের লোকেরা পাশে না থাকলে উৎপাদন এত বাড়ল কী করে? তাই তো। মন্ত্রী মহোদয় নিজেকে নিশ্চয়ই জনপ্রতিনিধি মনে করেন, কিন্তু তিনি অনেক কিছুই জানেন তবে এটুকু জানেন না যে উৎপাদন যে বেড়েছে সেটা সরকারি লোকের উপস্থিতির কারণে নয়, বেড়েছে উপস্থিতি সত্ত্বেও। কৃষক সরকারি লোকদের, তা তারা দলীয় মাস্তানই হোক কি সরকারি আমলা কিংবা সরকারের বিবিধ বাহিনীর লোকজনই হোক, তাদের পাশে থাকলে তো কথাই নেই, কাছে এগিয়ে আসছে দেখলেই ভয়ে কাঁপতে থাকে। সরকারি লোকেরা মূলত যা উৎপাদন করে তা ভীতি; অন্য জিনিস উৎপাদনে তারা মোটেই দক্ষ নয়, বিশ্বাসীও নয়। ভীতির মধ্যেই এবং ভীতি সত্ত্বেও উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রকৃতি তেমন বিরূপ ছিল না। তার চেয়েও বড় কথা চাষিরা শ্রমে কোনো কসুর করেনি।

 

বলা হচ্ছে সরকারি গুদাম পর্যাপ্ত নয়। পর্যাপ্ত না হলে পর্যাপ্ত করা দরকার ছিল। অনুৎপাদক খাতে ব্যয় করার সময়ে তো কই সরকারের অর্থ ও উদ্যোগ কোনোটারই সামান্যতম অভাব দেখা যায় না; তাহলে অত্যাবশ্যকীয় এই দায়িত্ব পালনে অনীহা কেন? এমনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় যাতে ধান সরাসরি চলে যাবে সরকারি গুদামে এবং মিল মালিকরা ধান কিনবে সেখান থেকেই, এবং কিনবে সরকারি দরে। ধান দ্রুত আসবে সরকারি গুদামে এবং সেখান থেকে দ্রুত চলে যাবে ধানের কলে। বাইরের কায়কারবার সব বন্ধ। বলা হচ্ছে চাল রপ্তানি করা হবে। পাশাপাশি আমদানিও কিন্তু চলছে। এবং এমন সরকারি বক্তব্য শোনা গিয়েছিল যে আমদানি চালু থাকবে। একই সরকারের এমন দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান বর্তমান বিশ্বে বিরল হতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশে তা মোটেই নয়। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা  বিশ্ব-দৃষ্টান্ত বটে। এক হাতে চাল বিদেশে পাঠানো অন্য হাতে বিদেশ থেকে চাল আনা, এ নিয়ে খবরের কাগজে যে কোনো কার্টুন ছাপা হয়েছে তাও দেখিনি। কার্টুনে নিষেধাজ্ঞা জারি আছে কি? না হলে সব দেখি, ‘বিনোদনে’র পাতাভরা নারীদেহের অর্ধ-উলঙ্গ রঙিন ছবি পর্যন্ত দেখি কিন্তু কার্টুন দেখি না কেন? ফেসবুকে শুনেছি কটুকাটব্য চলে, কিন্তু সে কাজও যে মোটেই নিরাপদ নয় তার ভূরি ভূরি প্রমাণ রয়েছে।

 

এক হাতে রপ্তানি অন্য হাতে আমদানি, ওই দ্বৈতনীতির পরস্পর-বিরোধিতাটা কিন্তু আপাত মাত্র। ভেতরের বস্তু অভিন্ন, সেটা হলো মুনাফা। রপ্তানিতেও মুনাফা, আমদানিতেও মুনাফা। কেবল যে বাণিজ্যিক মুনাফা তা নয়; কারসাজি করে, কাগজে-কলমে এক ক্ষেত্রে দাম কম অন্য ক্ষেত্রে দাম বেশি দেখিয়ে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা চলে। সমানে চলছে। টাকা পাচারের এ এক ভালো রাস্তা। ‘বৈধ’ রাস্তাও বটে। আবার আমদানি-রপ্তানির ক্রীড়াকৌতুকে বাণিজ্যিকভাবে যে মুনাফাটা আসছে সেটাও যে দেশে থাকবে, শিল্পকারখানা গড়তে খরচ হবে এটাও নিতান্তই দুরাশা। মুনাফার একটা বড় অংশের নিশ্চিত গন্তব্য ওই বিদেশই। পুঁজিবাদী দুনিয়ার এটি আরেক বৈশিষ্ট্য। যে চীন মহাদেশ এক সময়ে বিপ্লবী ছিল সে যে এখন পুঁজিবাদী হয়ে গেছে তার অনেক প্রমাণের একটি হলো সেখানে ধনীরা অতিদ্রুত ধনী এবং অধিক-ধনীরা বিদেশে চলে যাচ্ছে। গত বছরেই নাকি দেশ ছেড়েছে দশ হাজার ধনাঢ্য ব্যক্তি। নিশ্চয়ই তারা খালি হাতে যায়নি, বোঁচকা-বাঁচকি সঙ্গে নিয়েই গেছে। বাংলাদেশে শুনছি ধনীদের ধনবান হওয়ার গতি চীনের ধনীদের গতিকেও হার মানিয়েছে, এবং এই মহামান্য ধনীদের কেউ কেউ ইতিমধ্যেই বিদেশে চলে গেছেন, অন্যরা যাওয়ার এন্তেজাম করছেন। ওই যে রক্তচোষা মুনাফা, ওটিই সারবস্তু। প্রত্যক্ষে অপ্রত্যক্ষে সকল সরকারি নীতিরই মূল কথাটা এখন মুনাফা। আর সে-মুনাফা জনপ্রিয়তার নয়, অর্থবিত্তের বটে। সমষ্টিগত নয়, ব্যক্তিগত।

৪. উন্নতি ঘটছে। উন্নতির মনোহর দৃশ্য ও মোহন বাদ্য যে দেখে না শোনে না তার দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করাটা খুবই যুক্তিসংগত। কিন্তু ভেতরে কান্নাও আছে। আর ওই যে কৃষক তার পাকা ধানে আগুন দিচ্ছে ওই ধান কৃষকের নীরব অশ্রুতে সিক্ত। হাঁড়ির ওই একটি চালেই বাকি চালের দশাটা জানা যাচ্ছে। তা তো বোঝা গেল, প্রশ্ন হলো এমনটাই কি চলবে, নাকি বদলাবে। একশ’ বছর আগের গফুর আর আজকের গফুর এক ব্যক্তি নয়। পৃথিবী বদলেছে, দেশভাগ হয়েছে, ভগ্নদেশ স্বাধীন হয়েছে, স্বাধীন হয়েছে মেহনতিদের লড়াইয়ের কারণেই। কিন্তু গত একশ’ বছরে মেহনতিদের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তনটা ঘটেছে কি? হ্যাঁ, রাস্তাঘাট ভালো হয়েছে, যোগাযোগ উন্নত, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, হাতে হাতে মোবাইল, টেলিভিশনে ভারতীয় সিরিয়াল, এসব আছে। পায়ে জুতো ছিল না, জুতো এসেছে। জামাকাপড়েও উন্নতির চিহ্ন। গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা বিদেশে গেছে; কেবল যে শ্রমিক হিসেবে গেছে তা নয়, গেছে পেশাজীবী হিসেবেও। কিন্তু তবু কৃষক তো তার পাকা ধানে আগুন দিচ্ছে। সোনার বাংলা তাহলে কোথায়? কার জন্য?

 

না, মেহনতিদের ভাগ্য বদলায়নি। কারণ যতই উন্নতি হয়েছে তত বেড়েছে বৈষম্য। আমাদের উন্নতির ইতিহাস আসলে বৈষম্যবৃদ্ধিরই ইতিহাস। উন্নতির কারণ হচ্ছে মেহনতিদের শ্রম, কিন্তু উন্নতির কঠোর বোঝা চেপে বসেছে ওই মেহনতিদের পিঠের ওপরেই। ঘরে তাদের নিত্যদিনের অভাব, অনেকেরই ঘর বলতে কিছু নেই। মেহনতিদের মেয়েরা ধর্ষিত হয়, যেখানে সেখানে। দলবদ্ধ ধর্ষণ চলছে, যেটা আগে কখনো শোনা যায়নি। কিন্তু এমন তো কথা ছিল না। মানুষ তো সংগ্রাম করেছে, যুগের পর যুগ ধরে। সেই সংগ্রামের ফলেই সকল উন্নতি।

 

ঊনসত্তরে আমাদের এই বাংলাদেশে একটি জনঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। কৃষক শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছিল ওই অভ্যুত্থানের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও চালিকাশক্তি। তার আওয়াজটা ছিল ‘কৃষক-শ্রমিক অস্ত্র ধরো, পূর্ববঙ্গ স্বাধীন করো।’ আওয়াজ কিন্তু আরও একটা ছিল। অভ্যুত্থানের অনুঘটকগুলোর সর্বপ্রথমটি ছিল বামপন্থি ছাত্রনেতা আসাদের প্রাণদান, আর আসাদের আত্মদানের সেই ঘটনার ভেতর থেকেই স্বতঃস্ফূর্ত আওয়াজটা বেরিয়ে এসেছিল, ‘আসাদের মন্ত্র জনগণতন্ত্র’। জনগণতন্ত্র অর্থাৎ সমাজতন্ত্র। পূর্ববঙ্গ স্বাধীন হয়েছে, কৃষক শ্রমিকই স্বাধীন করেছে, কিন্তু সমাজতন্ত্র আসেনি। আর আসেনি বলেই মেহনতিদের ভাগ্য বদলায়নি। দেশ একবার স্বাধীন হয়েছিল সাতচল্লিশে, আরেকবার স্বাধীন হয়েছে একাত্তরে; রাষ্ট্র ছোট হয়েছে আয়তনে, কিন্তু তার ভেতরের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রের চালকদের মনোভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পুরনো রাষ্ট্রযন্ত্রটিকেই মেরামত করে চালানো হচ্ছে, কিন্তু যন্ত্র যেহেতু পুরনো এবং রাষ্ট্রচালকদের মুনাফালিপ্সা যেহেতু লেলিহান তাই ফল দাঁড়িয়েছে মেহনতিদের নির্মম বঞ্চনা, তাদের ওপর দুঃসহ নিপীড়ন। বঞ্চনা ও নিপীড়নের দরুন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে ধিকি ধিকি; মাঝে মাঝে সেটা দপ্ আওয়াজ দিয়ে দৃশ্যমানও হয়। আশঙ্কা ব্যাপক নৈরাজ্যের। ঊনসত্তরে জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো আওয়াজটাও শোনা গেছিল। আগুন জ্বলেও উঠেছিল। কেবল মশাল মিছিলের নয়, আগুন জেলেছিল গণআদালতে, এবং কলকারখানা ও তহশিল অফিস ঘেরাওয়ের মধ্যে। একাত্তরে ভিন্ন ধরনের এক আগুন জ্বালিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদারেরা। তার বিপরীতে ছিল জনগণের প্রতিরোধের আগুন। প্রতিরোধের বহ্নিশিখার তাড়া খেয়েই হানাদারেরা পালিয়েছে। কিন্তু প্রতিরোধের সেই আগুন পুরাতন ব্যবস্থাটাকে যে পুড়িয়ে দেবে, তা ঘটেনি। সামাজিক বিপ্লব হয়নি। মানুষে মানুষে অর্থাৎ শ্রেণিতে শ্রেণিতে সম্পর্কটা সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। দেখতে দেখতে একশ’ বছর নয়, দুইশ’ বছরই পার হয়ে গেল। ইংরেজ শাসন পুরাতন সামন্তবাদী সমাজ সম্পর্ককে যে নতুনভাবে শক্ত করে দিয়েছিল, কায়েম করেছিল ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’, সেটা এখন নেই, পুঁজিবাদ এ দেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণী জগতের চরম শত্রু পুঁজিবাদকে বিদায় করা চাই, তার অন্তর্গত ব্যক্তিমালিকানার জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা চাই সামাজিক মালিকানাকে। সেটা সম্ভব হবে না সামাজিক বিপ্লব ছাড়া।

 

এ যে কেবল বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা তা নয়, চাহিদা সে সারা বিশ্বের পীড়িত মানুষের। সকল দেশেই মানুষই এখন লড়াই করছে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে। এ এক নতুন আন্তর্জাতিকতা। এর শক্তি নিহিত রয়েছে মেহনতি মানুষের বুকের ভেতর যে আগুন জ্বলছে সেই আগুনে। এই বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতায় অংশ নেবে সমাজের সকল সচেতন ও হৃদয়বান মানুষ। ধরিত্রী আজ বিপন্ন। নিপীড়নের মুখে পড়ে প্রকৃতিও বিরূপ হয়ে উঠেছে। সেও প্রতিবাদ করছে। পুঁজিবাদকে হটিয়ে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা না-ঘটলে মানুষ, প্রকৃতি এবং প্রাণীজগৎ সকলেরই বিপদ বাড়বে। সে বিপদ কোনো সামান্য বিপদ নয়।

 

সামাজিক বিপ্লবের প্রধান শত্রু পুঁজির মালিকরা, সঙ্গে আছে তাদের দালাল-ফড়িয়ারা, যাদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীরাও পড়ে, পড়ে সাংবাদিকরাও। কথিত বুদ্ধিজীবীদের তুলনায় সাংবাদিকদের শক্তি এখন অনেক বেশি। এক অর্থে এই যুগ মিডিয়ারই যুগ। মিডিয়া পারে সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য করতে; যেমন পারে সত্যকে জলজ্যান্ত করে তুলতেও। মিডিয়ার মালিকরা সকলেই পুঁজিওয়ালা। কিন্তু সাংবাদিকরা আছেন, মালিক না হলেও তারা পারেন মিডিয়াকে প্রভাবিত করতে। সেজন্য অবশ্য প্রয়োজন হবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং ঐক্যবদ্ধভাবে বিবেকের অনুশীলন করা। দলবদ্ধ তৎপরতায় নুসরত জাহানকে আগুনে পুড়িয়ে মারা এবং অসহায় কৃষকের পাকা ধানে নিজের হাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা তো চাপা পড়েই থাকত, সাংবাদিকরা না থাকলে। মিডিয়ার কর্মীরাও মেহনতিই, তাদেরও আসতে হবে মেহনতিদের কাতারে, ব্যক্তিমালিকানার বদলে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজ বিপ্লবের আন্দোলনে।     

২৯.০৫.২০১৯, ঢাকা