বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ১১ মাস ধরে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের ফলে কয়েক মাস ধরে এশিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি নি¤œমুখী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যবসায়িক নীতিনির্ধারকদের আরও প্রণোদনার দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

বাণিজ্যযুদ্ধের দুই অন্যতম অংশীদার রাষ্ট্রের একে অপরের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন। বিনিয়োগ না হওয়ার কারণে চলমান অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই করছে। ফলে গত কয়েক মাসে বিশ্বব্যাপী তৈরি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সংকট।

কিছু অর্থনীতিবিদ একটি বৈশ্বিক মন্দার         

 

আশঙ্কা করছেন। ওসাকায় অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনে সুদের হার কমিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যকরী সিদ্ধান্ত না হলে মন্দা অবশ্যম্ভাবীÑবলছেন অনেকে। চলতি মাসের শেষের দিকে এই সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সম্মেলনে মুখোমুখি হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং।

বাণিজ্যযুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে ইউরো জোনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাজ্য। ইতিমধ্যেই দেশটিতে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ ও ব্যয় সংকোচনে বাধ্য হয়েছে। গত মাসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি মাসে ইউরোপে যে পরিমাণ পণ্য যুক্তরাজ্য রপ্তানি করে তা গত মাসে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটি।

এএক্সএ ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার্সের বাজারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আয়দান ইয়ো বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে আরোপিত বাড়তি শুল্ক নেতিবাচক ফল নিয়ে আসছে। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে মুদ্রানীতির প্রতিক্রিয়ায় প্রায় সবখানেই অর্থনীতির গতি নি¤œমুখী।’ আইএইচএস মার্কিটের গত মে মাসের সূচকে দেখা যায়, গত এপ্রিলে ইউরো জোনে ক্রয়ের সূচক ছিল ৪৭ দশমিক ৭, যা গত ছয় বছরের তুলনায় বেশ কম।

চলতি সপ্তাহে সুদের হার কমাতে পারে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কেন্দ্রিয় ব্যাংক। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে বিশ্বের আরও অনেক দেশকে একই পথ ধরতে হবে। আগামী জুলাই মাসের শেষ নাগাদ অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে এমন সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।

জে পি মর্গান আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভকে বছরে দুবার সুদের হার কমাতে হতে পারে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি এর আগের ভবিষ্যদ্বাণীতে বলেছিল, ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার একই রাখতে পারবে। পরিবর্তিত বাস্তবতায় ব্যাংকগুলোকে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া রোধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন করে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

গত মাসে ট্রাম্প চীনের আমদানি পণ্যের ওপর আরও ২৫ শতাংশ কর ধার্য করে, যা আগে ছিল ১০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপের চিন্তা করছে। আর এমনটা হলে আগামী অর্থবছরের শুরুতেই বৈশ্বিক অর্থমন্দা শুরু হতে পারে বলে মনে করেন মর্গান স্ট্যানলির বৈশ্বিক প্রধান চেতন আহায়া।