স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি ও কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণকারী ১০২ জনের মধ্যে ৭৪ জনের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তালিকায় থাকা কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির চার ভাইসহ কয়েকজন আত্মীয় এবং কয়েকজন জনপ্রতিনিধির নাম অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দুদক বলছে, আগেই তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অনুসন্ধানের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার কারণে একজনের নাম অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, “ইতিপূর্বে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে অথবা গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ১০২ জনের মধ্যে ২৬ জনের বিরুদ্ধে দুদক আগেই অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এ ছাড়া তালিকায় থাকা জিয়াউর রহমান জিহাদ এরই মধ্যে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। আর একটি নাম দুইবার এসেছে। বদির আত্মীয়দের বিষয়ে আগেই অনুসন্ধান হওয়ায় তাদের এবার অনুসন্ধানে বাদ রাখা হয়েছে। অপর ৭৪ জনের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য সোমবার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।’
দুদকের অনুসন্ধান তালিকায় বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি বদির চার ভাই আবদুস শুক্কুর, আমিনুর রহমান, মো. ফয়সাল রহমান ও শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া রয়েছেন তার ভাগ্নে সাহেদ রহমান নিপু, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেল ও বেয়াই শাহেদ কামাল।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পুলিশের কাছে প্রথমবারের মতো ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদের কক্সবাজার জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
উপপরিচালক প্রণব জানান, দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ ও ২ থেকে ৭৪ জনের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অনুসন্ধান করা হবে। একই সঙ্গে তাদের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।
দুদকের নথি অনুযায়ী যে ৭৪ জনের সম্পদ অনুসন্ধান করা হবে তারা হলেনÑ সাবরাং ইউনিয়নের মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে দানু মেম্বার; শাহপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম মেম্বার, সামশু মেম্বার, আলী আহমদ, হোসেন আহমদ, শওকত আলম, রাসেল; মুণ্ডার ডেইলের মনজুর; আলীর ডেইলের জাফর আহমদ, আবদুল হামিদ, শামীম; দক্ষিণ নয়াপাড়ার নূর মোহাম্মদ, আলমগীর ফয়সাল; ডেইল পাড়ার মো. সাকের মিয়া; নয়াপাড়ার মো. তৈয়ব; দক্ষিণ
জালিয়াপাড়ার ইমাম হোসেন; বড় হাবিব পাড়ার ছিদ্দিক; ধুরী পাড়ার বাসিন্দা ও আবদুর রহমান বদির খালাতো ভাই মং অং থেইন ওরফে মমচি; ডেইল পাড়ার আবদুল আমিন; নাজির পাড়ার এনামুল হক মেম্বার, ভুট্টোর ভাগ্নে আফসার, আবদুর রহমান, মো. রফিক, মো. হেলাল, জামাল হোসেন; মৌলভী পাড়ার মো. আলী; উত্তর লম্বরীর আবদুল করিম ওরফে করিম মাঝি; সদর কচুবনিয়ার বদিউর রহমান; রাজার ছড়ার আবদুল কুদ্দুস; জাহালিয়া পাড়ার মো. সিরাজ; নতুন পল্লানপাড়ার মো. সেলিম; নাইট্যং পাড়ার মো. রহিম উল্লাহ; চৌধুরী পাড়ার মোহাম্মদ আলম; তুলাতলীর নুরুল বশর; হাতিয়ার ঘোনার দিল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হাছন; রাজার ছড়ার হোসেন আলী; উত্তর জালিয়াপাড়ার নুরুল বশর মিজি, আবদুল গনি; জালিয়া পাড়ার মো. হাশেম; পুরান পল্লান পাড়ার ইসমাইল; নাইট্যংপাড়ার আইয়ুব, নুর হাবিব; মাঠপাড়ার কামাল; শিলবনিয়াপাড়ার আইয়ুব; জালিয়াপাড়ার আলম, নুরুল আলম; বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজ পুরার নুরুল আলম; শামলাপুর জুমপাড়ার শফি উল্লাহ, ছৈয়দ আলম; উত্তর শীলখালীর মো. আবু ছৈয়দ; হ্নীলা ইউনিয়নের হ্নীলা পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার; আলী খালীর জামাল মেম্বার, শাহ আজম, রশিদ আহমদ; পশ্চিম লেদার নুরুল কবীর; পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম; জাদিমোরার মোহাম্মদ হাসান আবদুল্লাহ; লেদার ফরিদ আলম, মো. হোছন, জহুর আলম, আবু তাহের, বোরহান, হামিদ, রবিউল আলম; আলী খালীর হারুন; হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মাহাবুব; পূর্ব পানখালীর নজরুল ইসলাম; পশ্চিম পানখালীর নুরুল আবছার; ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, আলী নেওয়াজ, আবু তৈয়ব, রমজান এবং কক্সবাজারের শাহজাহান আনসারী।