মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান ও সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারকে তার বইয়ে ‘সত্য প্রকাশের’ কারণেই ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া এবারের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ২০১৪ সালে এ কে খন্দকার প্রথমা থেকে প্রকাশিত তার বইয়ে লিখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি
শেষ করেছিলেন ‘জয় পাকিস্তান’ বলে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে নীরব থাকলেও গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বইয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে এ কে খন্দকার বলেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেননি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘সত্য ও ইতিহাস এখন বাকশালি হুকুমের কাছে বন্দি। আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক কিংবা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। বই প্রকাশের পাঁচ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধানকে যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে সেটি জনগণের কাছে এখন খুবই পরিষ্কার।’
তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে আদালত ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ব্যবহার করে কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, জীবনী লেখক, ইতিহাসবিদদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লিখিত গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগারদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার সত্য ইতিহাস যখন বিভিন্ন লেখকের লেখায় ফুটে ওঠে, তখন তারা ব্যর্থতা ঢাকার জন্য অবৈধ ক্ষমতার দম্ভে ও গর্বে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। লেখকদের নানাভাবে বাধ্য করা হয় লেখার সত্য অংশটুকু মুছে ফেলতে।’
র্যাব মহাপরিচালকের বক্তব্যে উদ্বেগ : গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে ৩০০ জন জামিন নিয়ে পলাতক আছে বলে র্যাব মহাপরিচালকের দেওয়া বক্তব্য শুনে দেশের জনগণ ‘বিস্মিত ও স্তম্ভিত’ বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কীভাবে? যেখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, বরেণ্য আইনজীবী কেউই নি¤œ আদালত থেকে জামিন পান না।’
এবারের ঈদ বেদনাদায়ক হবে : এবারের ঈদ স্বস্তিদায়ক হবেÑ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ‘এবারের ঈদ হবে সবচেয়ে বেদনাদায়ক। কারণ গণতন্ত্রহীন দেশে অশান্তি, প্রতিহিংসা, হানাহানি ও বিচারহীনতার রাজত্ব কায়েম করেছে অবৈধ সরকার। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কোটি কোটি কৃষকের ঘরে কোনো ঈদ আনন্দ নেই। বেশিরভাগ মানুষের পকেটে টাকা না থাকায় মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা, বেচাকেনা নেই, সেটি স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। ’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘মানসিক ও শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্যই খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এর কারণ একটা চিরস্থায়ী জমিদারি শাসন কায়েম রাখা। এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক এখনো বেতন-বোনাস পাননি। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ গুম-খুনের শিকার হচ্ছে। নারী-শিশুরা খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়–য়া, আবদুস সালাম, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
এ কে খন্দকারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে : রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান ও সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারকে তার বইয়ে ‘সত্য প্রকাশের’ কারণেই ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া এবারের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ২০১৪ সালে এ কে খন্দকার প্রথমা থেকে প্রকাশিত তার বইয়ে লিখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি
শেষ করেছিলেন ‘জয় পাকিস্তান’ বলে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে নীরব থাকলেও গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বইয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে এ কে খন্দকার বলেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেননি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘সত্য ও ইতিহাস এখন বাকশালি হুকুমের কাছে বন্দি। আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক কিংবা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। বই প্রকাশের পাঁচ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধানকে যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে সেটি জনগণের কাছে এখন খুবই পরিষ্কার।’
তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে আদালত ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ব্যবহার করে কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, জীবনী লেখক, ইতিহাসবিদদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লিখিত গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগারদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার সত্য ইতিহাস যখন বিভিন্ন লেখকের লেখায় ফুটে ওঠে, তখন তারা ব্যর্থতা ঢাকার জন্য অবৈধ ক্ষমতার দম্ভে ও গর্বে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। লেখকদের নানাভাবে বাধ্য করা হয় লেখার সত্য অংশটুকু মুছে ফেলতে।’
র্যাব মহাপরিচালকের বক্তব্যে উদ্বেগ : গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে ৩০০ জন জামিন নিয়ে পলাতক আছে বলে র্যাব মহাপরিচালকের দেওয়া বক্তব্য শুনে দেশের জনগণ ‘বিস্মিত ও স্তম্ভিত’ বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কীভাবে? যেখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, বরেণ্য আইনজীবী কেউই নি¤œ আদালত থেকে জামিন পান না।’
এবারের ঈদ বেদনাদায়ক হবে : এবারের ঈদ স্বস্তিদায়ক হবেÑ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ‘এবারের ঈদ হবে সবচেয়ে বেদনাদায়ক। কারণ গণতন্ত্রহীন দেশে অশান্তি, প্রতিহিংসা, হানাহানি ও বিচারহীনতার রাজত্ব কায়েম করেছে অবৈধ সরকার। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কোটি কোটি কৃষকের ঘরে কোনো ঈদ আনন্দ নেই। বেশিরভাগ মানুষের পকেটে টাকা না থাকায় মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা, বেচাকেনা নেই, সেটি স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। ’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘মানসিক ও শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্যই খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এর কারণ একটা চিরস্থায়ী জমিদারি শাসন কায়েম রাখা। এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক এখনো বেতন-বোনাস পাননি। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ গুম-খুনের শিকার হচ্ছে। নারী-শিশুরা খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়–য়া, আবদুস সালাম, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।