সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের চরবর্নিয়া গ্রামের দুই পক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ববিরোধের জের ধরে দফায় দফায় হামলা সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের পাবনা, বেড়া ও বগুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান শুরু করে। এর এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইউনুছ আলী (১৪) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে শাহজাদপুর থানার এসআই আফজালসহ দুই পুলিশ আহত হন।
আহত অপর পুলিশের নাম জানা যায়নি।
অপরদিকে পুলিশ এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে সেনা সদস্য পলাশ মোল্লাসহ ১০ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, এ দিন সকাল ১১টার দিকে বর্ণিয়া খেয়াঘাট থেকে বাঁশের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ সেনা সদস্য পলাশ মোল্লা ও তার লোকজন অতর্কিতে আখের শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
তারা জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আখেরের পক্ষের লোকজন সেনা সদস্য পলাশের বাড়িতে ব্যাপক হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এতে ব্যার্থ হয়ে পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাদের ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
এ সময় আখেরের চাচাত ভাই জয়নাল শেখের ছেলে ইউনুছ আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গ্রামবাসী দাবি করেন, পুলিশ ওই সেনা সদস্যর পক্ষ নিয়ে সরাসরি নিরিহ উৎসুক জনতার ওপর গুলি ছোড়ে। এতে স্কুলছাত্র ইউনুছ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।
শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান এলাকাবাসির এ দাবী অস্বীকার করে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসা সেনা সদস্য পলাশ মোল্লা পুলিশের হাত থেকে শর্টগান কেড়ে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালায়। এতে প্রতিপক্ষ জয়নাল শেখের ছেলে ইউনুছ আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।
তিনি আরো জানান, আটককৃত সেনা সদস্য পলাশ মোল্লা চরবর্ণিয়া গ্রামের হেলাল মোল্লার ছেলে। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে তিনি পূর্ববিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ দিকে এ দিন সন্ধ্যায় নিহত ইউনুছের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে শাহজাদপুর থানায় রাখে।
বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিরাজগঞ্জের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, এ হত্যার ঘটনায় সেনা সদস্য পলাশসহ ১৬/১৭ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার পর থেকে আসামিপক্ষ বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অপরদিকে এ হত্যার ঘটনায় এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।